খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তিন দফা দাবি আদায়ে আজ সোমবার (২৬ মে) থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন। ফলে দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৭টি বিদ্যালয়ে লেখাপড়া কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থী শিখন ঘাটতির মুখে পড়েছে।
শিক্ষকদের দাবি, তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, উচ্চতর গ্রেড পেতে জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ পদোন্নতির নিশ্চয়তা দিতে হবে। আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে। তবে পরীক্ষাগুলো কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গত ৫ মে এক ঘণ্টার কর্মবিরতির মাধ্যমে আন্দোলন শুরু করেন। ধাপে ধাপে কর্মবিরতির সময় বাড়িয়ে আজ থেকে তারা পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে গেছেন। আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণে কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘একই যোগ্যতা নিয়ে অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১০ম গ্রেড পেলেও, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডও পাচ্ছেন না। এটা বেতনের চরম বৈষম্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জন্য ১২তম গ্রেডের সুপারিশ আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা ১১তম গ্রেড চাই, এটা আমাদের ন্যায্য দাবি।’
শিক্ষক নেত্রী খায়রুন নাহার লিপি বলেন, ‘১২তম গ্রেডের সুপারিশ মানি না, মানবো না। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
শিক্ষার বড় ক্ষতি
সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পোষাতে বিদ্যালয়ের সময় বাড়িয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ক্লাস পরিচালনার আদেশ দেয়। কিন্তু শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে এই সময়সূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষকরা আন্দোলনের ন্যায্যতা থাকলেও সময়টা শিক্ষার্থীদের জন্য সংকটপূর্ণ। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক, কিন্তু সময়টা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর। করোনা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। এখন আবার কর্মবিরতিতে নতুন করে শিখন ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, নির্বাচিত সরকারের কাছে তারা যেনো তাদের দাবি তুলে ধরেন। এখন আন্দোলন স্থগিত করাই হবে দায়িত্বশীলতার পরিচয়।’
শিক্ষকদের তিন দফা দাবি
১. সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ ধরে ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ।
২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা নিরসন।
৩. প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতির নিশ্চয়তা ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন।
শিক্ষকদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতির কারণে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পাঠদান কার্যক্রম ও সিলেবাস সম্পন্ন করায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। এখনো পর্যন্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
খবরওয়ালা/এন