খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে। এটি নিশ্চিত করেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। রোববার কক্সবাজারে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক সভায় তিনি আগাম এই তথ্য প্রকাশ করেন।
জেনারেল সানাউল্লাহ জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজকের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট পরিপত্র জারি করবে। সেই পরিপত্রে নির্দিষ্ট নির্দেশনা ও লক্ষ্যগুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে। তিনি বলেন, “এবারের যৌথবাহিনীর অভিযান সারা দেশে একযোগে শুরু হবে। এর ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলার ঘটনা কমানো সম্ভব হবে।”
তিনি আরও জানান, যৌথবাহিনীর অভিযান তিনটি মূল উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত হবে। প্রথমে, নির্বাচনের আগে দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কাজ করা। যা উদ্ধার সম্ভব নয়, সেগুলো যাতে কোনো অপকর্মে ব্যবহৃত না হয় তা নিশ্চিত করা হবে।
দ্বিতীয়ত, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের গ্রেফতার এবং আইনের আওতায় আনা। আর তৃতীয়ত, নির্বাচনকেন্দ্রিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি মানা হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা। বড় ধরনের ব্যত্যয় যৌথবাহিনী দেখবে, আর ছোটখাটো নিয়মবিধি লঙ্ঘন রুটিন পর্যবেক্ষণ কমিটি দ্বারা নিরীক্ষণ করা হবে।
রোহিঙ্গা শিবিরগুলো সংক্রান্ত আইন-শৃঙ্খলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জেনারেল সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, “ক্যাম্পগুলো সিল করা হবে এবং স্থল সীমান্ত ও সাগরপথেও নজরদারি বাড়ানো হবে। যাতে কোনোভাবেই দুষ্কৃতিকারীরা এসব স্থান ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে।”
নিচের টেবিলে যৌথবাহিনীর অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | অভিযান লক্ষ্য | বিস্তারিত ব্যাখ্যা |
|---|---|---|
| ১ | অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার | নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ এবং অপকর্মে ব্যবহারের সম্ভাবনা রোধ |
| ২ | সন্ত্রাসী গ্রেফতার | চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা |
| ৩ | আচরণবিধি পর্যবেক্ষণ | নির্বাচনকেন্দ্রিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধ; বড় ব্যত্যয় যৌথবাহিনী দেখবে, ছোট ব্যত্যয় রুটিন কমিটি পর্যবেক্ষণ করবে |
| ৪ | সীমান্ত ও শিবির নজরদারি | রোহিঙ্গা শিবির, স্থল সীমান্ত ও সাগরপথে নজরদারি বাড়ানো, অপরাধমূলক ব্যবহার রোধ |
জেনারেল সানাউল্লাহ আরও জানান, সকল বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে ইতিমধ্যেই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রতিটি হেডকোয়ার্টার অভিযানের জন্য প্রস্তুত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই যৌথবাহিনীর কার্যক্রম দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি শক্তিশালী করবে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
সারাদেশে যৌথবাহিনীর এই অভিযান নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অসাধু কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।