খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে পৌষ ১৪৩২ | ৫ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শীতের হিমেল হাওয়ায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কমে যায়, যার ফলে সর্দি-কাশি, ক্লান্তি এবং ত্বকের শুষ্কতা আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। এই সময়ে শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখা এবং পুষ্টির যোগান দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, শীতকালীন খাদ্যতালিকায় ‘সুপারফুড’ হিসেবে খেজুর রাখা কেবল বিলাসিতা নয়, বরং সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ফাইবারের ভাণ্ডার এই ফলটি শীতকালে শরীরকে চাঙ্গা রাখতে জাদুর মতো কাজ করে।
শীতের সকালে বা রাতে ঘুমানোর আগে প্রতিদিন অন্তত ৩টি খেজুর খেলে শরীরে কী ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
খেজুরে উচ্চমাত্রায় প্রাকৃতিক শর্করা যেমন গ্লুকোজ, সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে। এই উপাদানগুলো শরীরে দ্রুত ক্যালরি সরবরাহ করে বিপাক হার বাড়িয়ে দেয়। ফলে শীতের সকালে ৩টি খেজুর খেলে শরীর ভেতর থেকে উষ্ণ থাকে এবং কর্মোদ্যম বৃদ্ধি পায়।
শীতকালে অনেকেরই হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যা রক্তে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। নিয়মিত খেজুর খেলে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দূর হয় এবং শরীরের ক্লান্তিভাব কেটে যায়।
শীতের তীব্রতায় শরীরের রক্তনালী কিছুটা সংকুচিত হয়ে যায়, যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। খেজুরে থাকা পটাশিয়াম শরীরের সোডিয়ামের ভারসাম্য রক্ষা করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া এটি ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
খেজুরের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ধারণা পেতে নিচের সারণিটি লক্ষ্য করুন:
| পুষ্টি উপাদান | পরিমাণ (গড়) | প্রধান স্বাস্থ্য উপকারিতা |
|---|---|---|
| আয়রন | ০.৯ মি.গ্রা. | রক্তাল্পতা দূর করে ও শক্তি বাড়ায়। |
| পটাশিয়াম | ৬৯৬ মি.গ্রা. | রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদযন্ত্র সুরক্ষা। |
| ক্যালসিয়াম | ৬৪ মি.গ্রা. | হাড় ও দাঁতের মজবুত গঠন নিশ্চিত করে। |
| ফাইবার | ৮ গ্রাম | হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর। |
| ম্যাগনেশিয়াম | ৫৪ মি.গ্রা. | রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রদাহ হ্রাস। |
শীতকালে সাধারণত পানি কম খাওয়ার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা প্রকট হয়। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে যা পাকস্থলীর কার্যক্রম সচল রাখে। রাতে ৩টি খেজুর পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানিসহ খেজুর খেলে পেটের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
শীতের সময়ে সাইনাস, এজমা বা সাধারণ সর্দি-জ্বর থেকে মুক্তি পেতে খেজুরে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ম্যাগনেশিয়াম দারুণ কার্যকর। এটি শরীরের কোষগুলোকে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে প্রতিরক্ষা দেয়াল হিসেবে কাজ করে।
পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুর খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো সকালবেলা খালি পেটে। এতে সারা দিন কাজের শক্তি বজায় থাকে। আবার রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধের সাথে ৩টি খেজুর ফুটিয়ে খেলে গভীর ঘুম হয় এবং পেশির ক্লান্তি দূর হয়। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, খেজুরে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। তাই যারা ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তশর্করায় ভুগছেন, তাঁরা খাদ্যতালিকায় নিয়মিত খেজুর অন্তর্ভুক্ত করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করবেন।