খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মৃত মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলের (কুলখানি) প্রস্তুতি তদারকি করার সময় বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন আবুল হোসেন (৪৬) নামে এক বিএনপি নেতা। ঘটনায় স্থানীয় ও পারিবারিকভাবে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় ২০ বছর আগে তার বড় ভাইও একইভাবে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছিলেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নবীনগর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আলিয়াবাদ গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল হোসেন ওই গ্রামের মৃত বজলু মিয়ার ছেলে এবং নবীনগর উপজেলা বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে তার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে কুলখানি ও ভোজের আয়োজন ছিল। অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি বাড়ির আঙিনায় পুকুরপাড়ে আনা গরুর ভুঁড়ি পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে অন্ধকারে তিনি অসাবধানতাবশত একটি নারিকেল গাছে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হন এবং পুকুরের পানিতে ছিটকে পড়েন।
পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
স্থানীয় সংবাদকর্মী ও আত্মীয়রা জানিয়েছেন, আবুল হোসেনের মৃত্যু পরিবার ও এলাকার জন্য এক ব্যথাদায়ক ঘটনা। তার বড় ভাই মো. মোশাররফও প্রায় ২০ বছর আগে একই ধরনের বিদ্যুত্স্পৃষ্ট ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। এই এক পরিবারের দুই ভাইয়ের একইভাবে আকস্মিক প্রয়াণ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | আবুল হোসেন |
| বয়স | ৪৬ বছর |
| পদবী | নবীনগর উপজেলা বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক |
| মৃত্যু স্থান | নবীনগর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড, আলিয়াবাদ গ্রাম |
| মৃত্যু তারিখ ও সময় | ৫ জানুয়ারি, রাত সাড়ে ১১টা |
| মৃত্যুর কারণ | বৈদ্যুতিক স্পৃষ্ট হয়ে পুকুরে পড়া |
| পরিবার | স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে |
| অতীত দুর্ঘটনা | বড় ভাই মো. মোশাররফ ২০ বছর আগে একইভাবে মৃত্যু |
স্থানীয়দের মতে, মায়ের কুলখানির আয়োজন করতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটায় আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা শোকস্তব্ধ। মঙ্গলবার সকাল থেকেই মৃতের বাড়িতে শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে শোক প্রকাশ করেছেন।
জনপ্রতিনিধিরাও মৃতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। মায়ের বিদায়ের শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এমন অকাল প্রয়াণ এলাকার মানুষের জন্য দুঃখের এক অতিরিক্ত অধ্যায় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর অবদান স্মরণ করছেন।