খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে পৌষ ১৪৩২ | ৭ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ ফুটবলের মাঠে ২০২৫ সালটি সাধারণ দর্শকের দৃষ্টিতে বেশ ইতিবাচক কাটছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভালো ফল, ফুটবলারদের পারফরম্যান্স এবং যুবফুটবলের ক্ষেত্রেও আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ঘরোয়া ফুটবলের অবস্থা তেমন সুখকর নয়। বিশেষ করে অর্থের সংকট ও পৃষ্ঠপোষকের অভাবে কয়েকটি টুর্নামেন্ট স্থগিত বা বাতিল হচ্ছে, যা খেলোয়াড় ও ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ঘোষণা করেছে যে, তাদের প্রাথমিক সূচিতে অন্তর্ভুক্ত একটি বড় টুর্নামেন্ট—“সুপার কাপ”—এই মৌসুমে আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। মূল কারণ হিসেবে বাফুফে জানিয়েছে পর্যাপ্ত স্পনসর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি এবং পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান।
মৌসুম শুরুর আগে বাফুফে ঘোষণায় ছিল যে, ঘরোয়া ফুটবলে মোট পাঁচটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। তবে স্পনসর সমস্যার কারণে তার মধ্যে একটি কোটি টাকার ‘সুপার কাপ’ বাতিল হলো। ইমরুল হাসান বলেন, “একটি টেলিকম কোম্পানি শুরুতে সুপার কাপের পৃষ্ঠপোষক হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা রাজি হয় নি। তাই এই টুর্নামেন্ট এখন আর আয়োজন করা সম্ভব নয়। আশা করছি পরের মৌসুমে এটি মাঠে গড়ানো যাবে।”
এর আগে এই সুপার কাপ টুর্নামেন্টটি ২০০৯, ২০১১ ও ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তৎকালীন সময়েও এটি দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবদের মধ্যে উত্তেজনা এবং দর্শক সমাগমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
| টুর্নামেন্টের নাম | আয়োজনের অবস্থা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| বাংলাদেশ ২.০ চ্যালেঞ্জ কাপ | সম্পন্ন | মাঠে গড়িয়েছে, ভালো প্রতিযোগিতা হয়েছে |
| ফেডারেশন কাপ | সম্পন্ন | জাতীয় দল নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা |
| বাংলাদেশ ফুটবল লিগ | চলমান / সম্পন্ন | মৌসুম শুরু হয়ে গেছে, অংশগ্রহণ ভালো |
| সুপার কাপ | বাতিল | স্পনসর না পাওয়ায় অনুষ্ঠিত হয়নি |
| (পঞ্চম টুর্নামেন্ট) | নির্ধারিত নয় | বিস্তারিত পরে ঘোষণা হবে |
খেলোয়াড় এবং ক্লাবগুলোর জন্য সুপার কাপের বাতিল অবশ্যই হতাশার খবর। কারণ এটি শুধু প্রতিযোগিতার সুযোগ নয়, বরং ক্লাবগুলোর আর্থিক ও মিডিয়া সমর্থনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্পনসরের অভাব কাটাতে বাফুফেকে আরও সক্রিয়ভাবে কর্পোরেট ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
ফুটবল অনুরাগীরা আশা করছেন যে, পরবর্তী মৌসুমে সুপার কাপ আবারও মাঠে ফিরে আসবে এবং দেশের ঘরোয়া ফুটবলের দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলবে।