খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৫ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে ব্রাজিল। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে দল নির্বাচন নিয়ে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বিশেষ করে তারকা ফুটবলার নেইমারকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত না করা নিয়ে দেশটির ফুটবল অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
সান্তোসের হয়ে বর্তমানে খেলা নেইমারকে দলে না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আনচেলত্তি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জাতীয় দলের নির্বাচন সম্পূর্ণ তার নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তিনি বলেন, “আমি চারপাশের সব মতামত শুনি এবং পর্যবেক্ষণ করি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমাকে নিতে হয় দলের স্বার্থ বিবেচনা করে। ফুটবল কোনো নির্দিষ্ট সূত্রে চলে না, এখানে পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়।” তাঁর এই বক্তব্যে পরিষ্কার যে আবেগ নয়, বরং পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং দলগত ভারসাম্যই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত একবারও নেইমারকে দলে ডাকেননি আনচেলত্তি। ফলে ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে যেমন অনেকে কোচের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন, অন্যদিকে নেইমারের মতো একজন অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়াকে অনেকেই অযৌক্তিক মনে করছেন।
এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছেন ব্রাজিলের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী তারকারা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য রোমারিও সরাসরি কোচের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেন, জাতীয় দলে সেরা খেলোয়াড়দেরই জায়গা হওয়া উচিত। তার মতে, বিশ্বকাপের আগে এক মাস সময় যথেষ্ট একজন খেলোয়াড়ের ফিটনেস ফিরে পাওয়ার জন্য। তিনি আরও বলেন, “নেইমার পুরোপুরি ফিট না থাকলেও তার মতো একজন সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়কে দলে রাখা যেকোনো সাধারণ খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে।”
একই ধরনের মতামত দিয়েছেন ‘দ্য ফেনোমেনন’ খ্যাত রোনালদো নাজারিও। তিনি বিশ্বাস করেন, নেইমার যদি শারীরিকভাবে খেলার উপযুক্ত অবস্থায় থাকেন, তাহলে তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। রোনালদোর মতে, নেইমারের অভিজ্ঞতা এবং ম্যাচের গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা ব্রাজিল দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যেও নেইমারের প্রতি আস্থা স্পষ্ট। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ফাবিনহো বলেন, “আমার দৃষ্টিতে নেইমার এখনো ব্রাজিলের সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়। সে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ফল পাল্টে দিতে পারে। তার উপস্থিতি পুরো দলের মনোবল বাড়িয়ে দেয়।”
এদিকে নেইমারের সামনে এখন নিজেকে প্রমাণ করার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগে সান্তোসের হয়ে ব্রাজিলের সিরি-এ লিগে তিনি সীমিত সংখ্যক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন। এই সময়ের মধ্যেই তাকে নিজের ফিটনেস, ফর্ম এবং ধারাবাহিকতা প্রমাণ করতে হবে।
নিচে নেইমারের বর্তমান পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| খেলোয়াড় | নেইমার |
| বর্তমান ক্লাব | সান্তোস |
| জাতীয় দলে অবস্থা | এখনো স্কোয়াডে ডাক পাননি |
| কোচ | কার্লো আনচেলত্তি |
| বিতর্কের কারণ | দল থেকে বাদ পড়া |
| সামনে ম্যাচ | ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ |
| বিশ্বকাপ প্রস্তুতি | ২০২৬ বিশ্বকাপ |
| বাকি সুযোগ | প্রায় ৮টি লিগ ম্যাচ |
| গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শুরু | ২ এপ্রিল (রেমো-পিএর বিপক্ষে) |
সব মিলিয়ে, নেইমারকে ঘিরে ব্রাজিল দলে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা সহজে থামার সম্ভাবনা নেই। একদিকে কোচ আনচেলত্তির কঠোর ও যুক্তিনির্ভর অবস্থান, অন্যদিকে সাবেক তারকা ও বর্তমান খেলোয়াড়দের সমর্থন—এই দ্বৈত অবস্থান পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন সবকিছু নির্ভর করছে নেইমারের পারফরম্যান্সের ওপর। যদি তিনি মাঠে নিজের সেরাটা প্রমাণ করতে পারেন, তবে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তার জায়গা করে নেওয়া অসম্ভব কিছু নয়। অন্যথায়, ব্রাজিল ফুটবলের এক যুগের প্রতীক হয়েও হয়তো তাকে বিশ্বকাপের মঞ্চের বাইরে থাকতে হতে পারে।