খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
আটলান্টিক মহাসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে একটি তেলের ট্যাঙ্কারকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্যের দায়ে অভিযুক্ত ‘মেরিনেরা’ (সাবেক নাম- বেলা ১) নামক এই জাহাজটি বর্তমানে আইসল্যান্ড ও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছে। মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে রাশিয়া একটি সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে ট্যাঙ্কারটিকে পাহারা দিচ্ছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নিষেধাজ্ঞার জটিলতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে ভেনেজুয়েলার ওপর কঠোর সমুদ্র অবরোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই জাহাজটি ইরানের তেল পরিবহন করছে এবং ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে। গায়ানার পতাকাবাহী হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার সময় নাটকীয়ভাবে জাহাজটির নাম পরিবর্তন করে ‘মেরিনেরা’ রাখা হয় এবং এটি রাশিয়ার পতাকা গ্রহণ করে। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স বিশ্লেষকদের মতে, সচরাচর কেবল ‘ডার্ক ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের ট্যাঙ্কারগুলোই মাঝ সমুদ্রে এভাবে পরিচয় পরিবর্তন করে।
জাহাজটির পরিচয় ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| জাহাজের নাম | মেরিনেরা (সাবেক নাম: বেলা ১) |
| বর্তমান পতাকা | রাশিয়া (পূর্বে গায়ানার পতাকাবাহী ছিল) |
| অভিযোগ | মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও ইরানি তেল পরিবহন |
| বর্তমান অবস্থান | উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর (আইসল্যান্ড থেকে ৩০০ কিমি দক্ষিণে) |
| প্রহরা ব্যবস্থা | রাশিয়ার সাবমেরিন ও নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ |
| মার্কিন প্রস্তুতি | ১০টি সামরিক পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন |
আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, তাদের পতাকাবাহী জাহাজটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন মেনেই চলাচল করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সামরিক তৎপরতাকে তারা ‘অযৌক্তিক এবং ভারসাম্যহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে, সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো জাহাজ পরিচয়হীন বা ‘স্টেটলেস’ থাকলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যে কেউ তা তল্লাশি করতে পারে। কিন্তু রাশিয়া এই জাহাজটিকে নিজেদের রেজিস্ট্রিতে অন্তর্ভুক্ত করায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সরাসরি জাহাজে ওঠা আইনিভাবে জটিল হয়ে পড়েছে। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজের নাম বা পতাকা যাই হোক না কেন, এর স্থায়ী আইএমও (IMO) নম্বর এবং মালিকানা নেটওয়ার্কই মার্কিন পদক্ষেপের ভিত্তি।
ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা
এই সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। সম্প্রতি কারাকাসে অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন বাহিনী। মাদুরোকে আটকের পর থেকে অন্তত ১৯টি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলের ট্যাঙ্কার রাশিয়ার পতাকা গ্রহণ করেছে বলে বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, তারা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত যে কোনো জাহাজের গতিবিধি ট্র্যাক করতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সর্বদা প্রস্তুত। ওয়াশিংটন জাহাজটিকে ডুবিয়ে দেওয়ার চেয়ে অক্ষত অবস্থায় জব্দ করতেই বেশি আগ্রহী। তবে ব্রিটেন এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। আটলান্টিকের এই স্নায়ুযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নেয় কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।