খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর কদমতলী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে অপহরণের নাটকীয় অভিযোগের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। নিখোঁজের তিন দিন পর ওয়াশিম আহমেদ মুকছান (৩৮) নামের ওই ব্যক্তিকে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, কোনো বাহিনী নয়, বরং মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি দিতে পরিবারের সদস্যরাই গোপনে তাকে নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অপহরণের অভিযোগ
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার ভোরে। ওয়াশিমের স্ত্রী শারমিন আক্তার টুম্পা কদমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার ভোর পাঁচটার দিকে কদমতলীর রাজাবাড়ি আলী বহর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে পাঁচ-ছয়জন অজ্ঞাত ব্যক্তি নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ওয়াশিমকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এই অভিযোগের পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং পুলিশের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।
নিচে ঘটনাপ্রবাহের একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা প্রদান করা হলো:
| তারিখ ও সময় | ঘটনার বিবরণ |
|---|---|
| শনিবার ভোর ৫:০০ টা | কদমতলীর বাসা থেকে ওয়াশিম আহমেদ মুকছান নিখোঁজ হন। |
| শনিবার (দিনব্যাপী) | স্ত্রী শারমিন আক্তার টুম্পা কর্তৃক কদমতলী থানায় জিডি দায়ের। |
| শনিবার থেকে মঙ্গলবার | সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশের তদন্ত। |
| মঙ্গলবার বিকেল | মেরাজনগরের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে ওয়াশিম উদ্ধার। |
| বুধবার সকাল | ডিএমপি কর্তৃক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ। |
| ফলাফল | ওয়াশিমকে তাঁর স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর। |
পুলিশি তদন্ত ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
জিডির পরপরই কদমতলী থানা–পুলিশ নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত দল নিশ্চিত হয় যে, কোনো সরকারি বাহিনীর গাড়ি বা সদস্য ওই অভিযানে অংশ নেয়নি। মঙ্গলবার কদমতলীর মেরাজনগর এলাকার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ওয়াশিমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে এক পারিবারিক দ্বন্দ্বের কাহিনী। পুলিশ জানায়, ওয়াশিম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন, যা তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছিল। ওয়াশিমের ভাই রাকিব এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মিলে তাকে সুস্থ করার পরিকল্পনা করেন। তবে ওয়াশিমের স্ত্রীর সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পর্ক ভালো না হওয়ায় তাকে বিষয়টি জানানো হয়নি। পরিবারের আশঙ্কা ছিল, মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর কথা জানলে তাঁর স্ত্রী বাধা দিতে পারেন।
গোপনে নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর কারণ
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, ভোরে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কম থাকে এবং নিরাময় কেন্দ্রে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়। একারণেই তারা শনিবার ভোর ৫টার সময়টি বেছে নিয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহারের কোনো প্রমাণ পুলিশ পায়নি; বরং বিষয়টি স্ত্রীর কাছে একটি বিশেষ পরিস্থিতি বা আতঙ্ক তৈরির মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপসংহার ও হস্তান্তর
উদ্ধারের পর ওয়াশিম আহমেদ মুকছানকে পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনে স্ত্রী শারমিন আক্তার টুম্পার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কদমতলী থানা পুলিশ জানায়, সামাজিক ও পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো তথ্য যাচাই না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর দায় চাপানো থেকে বিরত থাকার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।