খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, যেখানে মূল্যস্ফীতির ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে। গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো এই মূল্যবৃদ্ধি মূলত জ্বালানি খাতের অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ এবং বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের দামের অনিশ্চয়তার কারণে সৃষ্টি হয়েছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।
বিশেষ করে গ্যাস ও তেলের দাম বৃদ্ধি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়কে সরাসরি প্রভাবিত করছে। এর ফলে খাদ্য, বিদ্যুৎ, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক খাতে ব্যয় একসঙ্গে বেড়ে গেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর এর চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে, কারণ তাদের আয়ের বড় অংশ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পারিবারিক সঞ্চয়ের হার দ্রুত হ্রাস পাওয়ায় ভবিষ্যৎ আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে তিন দশমিক আট শতাংশে, যা মার্চ মাসে ছিল তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ। ভোক্তা ব্যয়ের গতি তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতির ইঙ্গিত বহন করছে। প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার কারণে অনেক পরিবার সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করে দৈনন্দিন ব্যয় চালাতে বাধ্য হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
নিচের সারণিতে সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকগুলো উপস্থাপন করা হলো—
| সূচক | এপ্রিল মাসের অবস্থা | আগের মাসের অবস্থা |
|---|---|---|
| বার্ষিক মূল্যস্ফীতি | তিন দশমিক আট শতাংশ | তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ |
| মাসিক ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধি | শূন্য দশমিক চার শতাংশ | শূন্য দশমিক সাত শতাংশ |
| প্রকৃত ভোক্তা ব্যয় | শূন্য দশমিক এক শতাংশ | এক দশমিক শূন্য শতাংশ |
| পারিবারিক সঞ্চয় হার | দুই দশমিক ছয় শতাংশ | চার দশমিক তিন শতাংশ |
| প্রকৃত আয় পরিবর্তন | ঋণাত্মক শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ | প্রায় স্থিতিশীল |
| অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (প্রথম প্রান্তিক) | এক দশমিক ছয় শতাংশ | শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ |
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে আয় বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্য ও জ্বালানির মতো মৌলিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বেশি সংকটে পড়ছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি বড় অংশও এখন সঞ্চয় ভেঙে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে বাধ্য হচ্ছে।
এছাড়া মৌলিক মূল্যস্ফীতির হারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থির খাত বাদ দেওয়া হয়। এপ্রিল মাসে এই সূচক সামান্য বেড়ে বার্ষিক ভিত্তিতে তিন দশমিক তিন শতাংশে পৌঁছেছে। এটি নির্দেশ করে যে শুধু জ্বালানি নয়, অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামও ক্রমাগত বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার চাপ, শুল্কনীতির পরিবর্তন এবং কাঁচামালের দামের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বর্তমানে এক ধরনের ভারসাম্যহীন অবস্থার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ ও ব্যয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে আয় ও সঞ্চয়ের পতন—এই দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবে সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়ছে। নীতিনির্ধারকদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা।