খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৪ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আর্সেনালের মৌসুম যেন এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে দল মাঠে দুর্দান্ত খেলছে, টেবিলে শীর্ষে অবস্থান করছে, অন্যদিকে তারকা খেলোয়াড়রা একে একে চোটে পড়ছেন। এই পরস্পরবিরোধী চিত্র ফুটবল বিশ্লেষকদের মনে তুলেছে নতুন প্রশ্ন—জয় আর সাফল্য কি খেলোয়াড়দের শারীরিক নিরাপত্তার বিনিময়ে অর্জিত হচ্ছে?
বেশ কয়েকটি বড় ক্লাবের মতো আর্সেনালকেও মৌসুমজুড়ে খেলতে হয় প্রায় সপ্তাহে দুই বা তিনটি ম্যাচ। প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, কারাবাও কাপ এবং এফএ কাপ—এই চারটি টুর্নামেন্টের পাশাপাশি রয়েছে খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের দায়িত্ব। এই সব মিলিয়ে একটি ক্লাব মৌসুমে প্রায় ৫০-৬০ ম্যাচ খেলতে বাধ্য হয়। প্রতিটি ম্যাচের আগে কঠিন ট্রেনিং, ভ্রমণ, কৌশলগত দূরদর্শিতা—এসব যোগ করলে বাস্তবতা দাঁড়ায় এমন যে খেলোয়াড়দের জীবনযাত্রা যেন কর্মজীবী মানুষের ব্যস্ত সময়সূচির থেকেও কঠিন।
ডেকলান রাইস ও ক্রিস্থিয়ান মস্কেরার চোট যেন কেবল একটি উদাহরণ মাত্র। আগেই চোটে বাইরে ছিলেন গ্যাব্রিয়েল ও সালিবা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাইসের চোট পেশিজনিত হওয়ায় তা অতিরিক্ত চাপের ফল। মস্কেরার চোট হাঁটু বা গোড়ালিতে হওয়ায় তা হঠাৎ ধাক্কার চেয়ে অনেক বেশি ‘অতিরিক্ত ব্যবহারের’ ফল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মৌসুম যত এগোবে, ততই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচের ঘনত্ব বাড়বে। বেলজিয়ামে আর্সেনালের পরবর্তী ম্যাচের আগে ভ্রমণও আরেকটি চাপ হিসেবে কাজ করবে। ভ্রমণ সোজা কথা মনে হলেও জেট ল্যাগ, আবহাওয়ার পরিবর্তন, সময়ভেদ—সব মিলিয়ে খেলোয়াড়দের শরীর ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। খেলোয়াড়দের শারীরিক পারফরম্যান্সে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে।
যদি এই চোট-সংকট অব্যাহত থাকে, আর্সেনাল কি তাদের গতি ধরে রাখতে পারবে? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি বিকল্প খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রতিভা প্রমাণ করতে না পারেন, তবে শীর্ষস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে।
এখন প্রশ্ন—ফুটবলের কর্তৃপক্ষ কি এই সূচি পরিবর্তন করবে? আর্তেতা মনে করেন, কর্তৃপক্ষ চাইলে অবশ্যই খেলোয়াড়দের আরও সময় দিতে পারে। তিনি এটিকে শুধু পরামর্শ নয়, মানবিক দায়িত্ব হিসেবেও বলেছেন। ফুটবল শিল্পের অর্থনীতিও এখন খেলোয়াড়দের শরীরে নির্ভরশীল, সুতরাং এই চোটের ঝুঁকি শিল্পের ওপরও হুমকি।
ফলাফল যা-ই হোক, ফুটবলের ভবিষ্যৎ এখনই একটি বড় প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে—ফুটবলাররা কি শুধুই ‘ব্যবহারের বস্তু’ হয়ে যাচ্ছে?