খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
আগামী জাতীয় গণভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে এবং নাগরিক সমাজে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত আলোচনার তীব্রতা বেড়েছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, যদি ভোটাররা গণভোটে ‘না’ ভোট দেন, তাহলে ১৯৭২ সালের সংবিধানটি বহাল থাকবে, যা বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর প্রণীত দেশের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে গণ্য।
সংবিধান সংশোধন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভোটারদের সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক কাঠামো, শাসন ব্যবস্থার ধরন এবং নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত মৌলিক কাঠামোতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। ‘না’ ভোট দিলে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা, মৌলিক অধিকার, নির্বাচনী ও বিচারিক কাঠামো একই থাকবে। অন্যদিকে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করলে প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হবে, যা সংবিধানের মৌলিক নীতি পরিবর্তনের পথ খুলে দেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংরক্ষণ এবং নাগরিক অধিকার বজায় রাখার জন্য এই গণভোটকে গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নকালে দেশ স্বাধীনতার পর প্রজাতন্ত্র হিসেবে রাজনৈতিক কাঠামো এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়। সংবিধানটি বাংলাদেশের প্রজাতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও বিচার ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা সংরক্ষণের প্রাথমিক নথি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রচার চালানো হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সরাসরি ক্যাম্পেইন মাধ্যমে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থ এবং প্রভাব বোঝানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে এবং নাগরিক সমাজে বিভিন্ন ধরনের মতামত শোনা যাচ্ছে। কেউ মনে করছেন, ‘না’ ভোটের মাধ্যমে সংবিধান বহাল রাখা পুরনো কাঠামোকে শক্তিশালী করবে। অন্যরা বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দেশের শাসন ও প্রশাসনে নবীনতা ও সমন্বয় আনতে পারা সম্ভব।
সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত এই গণভোটকে দেশের প্রজাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণভোটে প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব অপরিসীম এবং তা দেশের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সর্বোপরিবিতর্কিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে ।