খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে মাঘ ১৪৩২ | ১৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
স্প্যানিশ সুপার কাপের সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ২-১ ব্যবধানে হারের পর আতলেটিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনে তার সাইডলাইনে আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। বিশেষ করে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে উসকানি দেওয়ার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
উত্তেজনাপূর্ণ স্বভাবের এই আর্জেন্টাইন কোচের আচরণ ম্যাচ চলাকালীন বারবার ক্যামেরায় ধরা পড়ে। জানা গেছে, ভিনিসিয়ুসের ভবিষ্যৎ এবং চুক্তি নিয়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “ফ্লোরেন্তিনো তোমাকে বের করে দেবে, আমি যা বলছি তা মনে রাখো।” পরে সিমিওনে স্বীকার করেছেন যে, ওই মুহূর্তে নিজেকে জড়ানো তার জন্য ভুল ছিল।
দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে কোপা দেল রের শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে সিমিওনে বলেন, “আমি ফ্লোরেন্তিনো এবং ভিনিসিয়ুসের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। ওই অবস্থানে নিজেকে জড়ানো আমার ভুল ছিল। যে দল জিতেছে, তারা এগিয়ে যাওয়ার যোগ্য ছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি ক্ষমা চাইছি, কিন্তু ক্ষমা প্রার্থনা করছি না। এর বেশি কিছু বলার নেই।”
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ভিনিসিয়ুসকে বদলি করার সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্টেডিয়ামের একাংশ থেকে দুয়োধ্বনি শোনা যায়। ভিনিসিয়ুস মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের দিকে ইশারা করে হেসে বলেন, “শোনো, শোনো!” এই ঘটনায় উভয় পক্ষের ফ্যানদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
সেমিফাইনাল ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয়ে ফাইনালে পৌঁছায়। ফাইনালে তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে ৩-২ গোলে হারে। ফাইনালের প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুস একটি অসাধারণ গোল করে রিয়াল সমর্থকদের মনে সাহস যোগ করেন।
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের লা লিগার বর্তমান অবস্থান এবং সাম্প্রতিক ফর্ম নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| দল | ম্যাচ | জয় | সম | পরাজয় | গোলের পার্থক্য | পয়েন্ট | অবস্থান |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| বার্সেলোনা | 21 | 15 | 3 | 3 | +21 | 48 | 1 |
| রিয়াল মাদ্রিদ | 21 | 14 | 5 | 2 | +19 | 47 | 2 |
| সেভিলা | 21 | 13 | 4 | 4 | +12 | 43 | 3 |
| আতলেটিকো মাদ্রিদ | 21 | 11 | 5 | 5 | +9 | 38 | 4 |
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এখনও শীর্ষস্থানীয় দলের থেকে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। কোচ সিমিওনের এই ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা দল এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে সম্পর্ক এবং মাঠের আচরণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুসের উচ্ছ্বাসপূর্ণ প্রতিক্রিয়া এবং স্টেডিয়ামের উত্তেজনা বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সিমিওনের আচরণ থেকে স্পষ্ট যে, ম্যাচে উত্তেজনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কোচের আবেগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তবে তার পরে প্রকাশিত ক্ষমা চাওয়ার বিবৃতির মাধ্যমে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তার আচরণ সীমারেখা ছাড়িয়েছে। আতলেটিকো মাদ্রিদের সামনে এখন লা লিগা এবং ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে, যেখানে এই বিতর্ক দলের মনোবল প্রভাবিত করতে পারে।