খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব কর্মকর্তা হত্যার মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ ইয়াসিন সম্প্রতি হুমকিস্বরূপ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এলাকায় অভিযানের আগে আসামির নাম ও ঠিকানা জানানো না হলে গ্রেপ্তার অভিযান ঢালাওভাবে করা হবে না। ইয়াসিন বলেন, “যদি কেউ আমাদের এলাকার কোনো বিষয়ে ঝামেলা করে, এতে বড় ধরনের জনবিস্ফোরণ ঘটবে।”
এই বক্তব্যের ভিডিও গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে নিজের কার্যালয়ে তিনি প্রায় ২৯ মিনিট ধরে বক্তব্য দেন। ভিডিওতে ইয়াসিন নিজেকে সন্ত্রাসী নয় বলে দাবি করেন এবং বলেন, “আমাদের সম্পত্তি এখানে, কেউ উচ্ছেদ করতে পারবে না। আগে এক জেলা প্রশাসক চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি নিজেই উধাও হয়ে গেছেন।”
ইয়াসিন একাধিকবার জনবিস্ফোরণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং প্রশাসনের ওপর দায় চাপিয়েছেন। তিনি র্যাবের গত সোমবারের অভিযানের সততার প্রশ্ন তোলেন এবং এর তদন্তের দাবি জানান। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (বহিষ্কৃত) রোকন উদ্দিনকে অস্থিরতার জন্য দায়ী করেন।
সোমবার বিকেল চারটার দিকে জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এরপর বুধবার রাতে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ইয়াসিনকে। মোট ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে নুরুল হক ভান্ডারীসহ কয়েকজন। এছাড়া ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, র্যাব আসামি ধরতে গেলে ইয়াসিনের নির্দেশে তাদের ওপর রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করা হয়। চার র্যাব সদস্য অপহরণ করা হয়, পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার করেন।
জঙ্গল সলিমপুরের ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক বিবরণ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অবস্থান | চট্টগ্রাম নগর থেকে প্রায় ২ কিমি পশ্চিমে, বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় |
| আয়তন | ৩,১০০ একর |
| সীমা | পূর্বে হাটহাজারী উপজেলা, দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা |
| বৈশিষ্ট্য | দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চার দশক ধরে অবৈধ বসতি, পাহাড় কাটার মাধ্যমে প্লট-বাণিজ্য |
| নিরাপত্তা | সশস্ত্র পাহারায় সন্ত্রাসী বাহিনী |
| সংঘর্ষ ইতিহাস | ২০২৩ সালের অক্টোবর, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত; সাংবাদিকরাও আক্রান্ত |
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরে দুই সন্ত্রাসীপক্ষ সক্রিয়। একপক্ষ ইয়াসিনের নেতৃত্বে, অপর রোকন উদ্দিনের নেতৃত্বে। ইয়াসিন ভিডিওতে দাবি করেন, বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা রোকনের পক্ষে রয়েছেন। তবে আসলাম চৌধুরী বলেন, তার কোনো অনুসারী এই এলাকায় নেই।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, “ইয়াসিন আলীনগরের কার্যালয়ে এই বক্তব্য দিয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুর রহমান বলেন, “৫০-এর বেশি র্যাব সদস্য ছিলেন। অভিযান নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।”