খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
দুই বাংলার রূপালি পর্দার নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান তাঁর শক্তিশালী অভিনয়শৈলীর পাশাপাশি জীবনবোধের গভীরতার জন্যও সমাদৃত। সম্প্রতি এক জনপ্রিয় পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি বর্তমান সময়ের এক জ্বলন্ত সমস্যা—মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত আসক্তি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। জয়া মনে করেন, প্রযুক্তির এই আষ্টেপৃষ্ঠে বন্ধন আমাদের চোখের সামনে থাকা সুন্দর পৃথিবী এবং প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ থেকে আমাদের ক্রমশ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। তাই মানবিক অনুভূতি ও সৃজনশীলতাকে সজীব রাখতে অপ্রয়োজনে মোবাইল ব্যবহার না করার জন্য ভক্ত ও দর্শকদের বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
জয়া আহসানের মতে, মানুষ যখনই অবসরে থাকে বা বাইরে বের হয়, অবচেতনভাবেই তার হাত চলে যায় মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে। এর ফলে আমরা আমাদের চারপাশের জগতকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ হারিয়ে ফেলছি। তিনি বলেন, “রাস্তায় চলার সময় আমরা যদি ফোনের দিকেই তাকিয়ে থাকি, তবে পাশের গাছটি কেমন করে দুলছে, ট্রাফিক জ্যামে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম কেমন, কিংবা একজন রিকশাচালক কতটা পরিশ্রম করে কপালে জমে থাকা ঘাম মুছছেন—তা আমাদের দেখা হয় না।” শিল্পীর কাছে জীবন পর্যবেক্ষণই সবচেয়ে বড় শিক্ষা। এই দেখার ক্ষমতা কমে গেলে অভিনয় বা সৃজনশীল কাজ প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
জয়া আহসানের জীবনদর্শন ও পডকাস্টের মূল উপজীব্য:
| আলোচনার বিষয় | জয়া আহসানের অভিমত ও পর্যবেক্ষণ |
| মোবাইল আসক্তি | প্রকৃতির সাথে মানবিক সম্পর্কের প্রধান বাধা। |
| অভিনয় ও পর্যবেক্ষণ | চারপাশের পরিবেশ না দেখলে অভিনয়ের গভীরতা আসে না। |
| মানসিক স্বাস্থ্য | ভোরের বাতাস ও পাখির ডাক প্রাকৃতিকভাবে মনকে সতেজ রাখে। |
| সৃজনশীল থেরাপি | পঞ্চেন্দ্রিয় সজাগ রাখাই একজন শিল্পীর প্রধান থেরাপি। |
| আসন্ন সিনেমা | ৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে জয়ার নতুন ছবি ‘ওসিডি’। |
| ব্যক্তিগত বিষয় | নাম, প্লাস্টিক সার্জারি ও ফিল্মফেয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা। |
জয়া আহসান কেবল অন্যদের পরামর্শ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি নিজেও এটি কঠোরভাবে মেনে চলেন। তিনি জানান যে, শুটিং সেটে তিনি পারতপক্ষে মোবাইল ফোন হাতে নেন না। চরিত্রটির ভেতরে প্রবেশ করার জন্য এবং সহশিল্পীদের অনুভূতির সাথে একাত্ম হওয়ার জন্য তিনি নিজেকে যান্ত্রিকতা থেকে দূরে রাখেন। তাঁর মতে, একজন শিল্পী যখন অন্য কাউকে স্পর্শ করেন বা চোখের দিকে তাকান, তখন সেই সংবেদনশীলতা যান্ত্রিক স্ক্রিনে পাওয়া অসম্ভব। ঘ্রাণ নেওয়া, শ্রবণ করা এবং দেখার ক্ষমতা—এই পঞ্চেন্দ্রিয়কে সজাগ রাখাই একজন পেশাদার শিল্পীর কাজ।
জয়া মনে করেন, সকালের স্নিগ্ধ আলো, পাখির কলকাকলি এবং ভোরের নির্মল বাতাস মানুষের মনের জন্য প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে। এটি কেবল শারীরিক প্রশান্তি নয়, বরং মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্যও অপরিহার্য। মোবাইল ফোনের নীল আলো আমাদের এই অকৃত্রিম থেরাপি থেকে বঞ্চিত করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে আমরা একে অপরের সাথে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকলেও মানসিকভাবে অনেক বেশি একা হয়ে পড়ছি। এই একাকীত্ব দূর করতে হলে মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলা এবং প্রকৃতির রূপ উপভোগ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা প্রসঙ্গে জয়া আহসান তাঁর ক্যারিয়ারের নানা বাঁকবদলের কথা স্মরণ করেন। কলকাতায় কাজ করার সুন্দর স্মৃতি, ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার জয়ের অভিজ্ঞতা এবং প্রায়শই সমালোচিত হওয়া প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে গুঞ্জনের বিষয়েও তিনি স্বতঃস্ফূর্ত উত্তর দিয়েছেন। জয়া জানান, মানুষের সমালোচনা তাঁকে স্পর্শ করলেও তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমেই তার জবাব দিতে পছন্দ করেন।
ভক্তদের জন্য বড় সংবাদ হলো, জয়া আহসানের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ওসিডি’ আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সিনেমার নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এটি একটি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক জটিলতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত, যা জয়ার বর্তমান চিন্তাধারার সাথেও প্রাসঙ্গিক।
জয়া আহসানের এই পরামর্শ কেবল গ্ল্যামার জগতের মানুষের জন্য নয়, বরং আমাদের প্রত্যেকের দৈনন্দিন জীবনের জন্য একটি প্রয়োজনীয় শিক্ষা। প্রযুক্তির দাসে পরিণত না হয়ে আমরা যদি দিনে অন্তত কিছু সময় ফোন সরিয়ে রেখে নিজের চারপাশকে অনুভব করি, তবে জীবন আরও অনেক বেশি অর্থবহ ও আনন্দময় হয়ে উঠবে। জয়ার এই ‘ডিজিটাল ডিটক্স’-এর আহ্বান আধুনিক নাগরিক জীবনে সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।