খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে হওয়া ১০টি প্রকল্প ও চুক্তি বাতিল করা হয়েছে বলে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা পুরোপুরি ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন।
সোমবার (২০ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া একটি পোস্টে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সাথে করা ১০ চুক্তি বাতিল, বাকিগুলোও বিবেচনাধীন।
পোস্টটিতে প্রকল্পগুলোর নাম উল্লেখ করে বলা হয়, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পরই চুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং যথাযথ পর্যালোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে এখন পর্যন্ত একটি চুক্তি বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এছাড়া আরো কয়েকটি প্রকল্প ও চুক্তির বিষয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এ সময় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পোস্ট নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
এ বিষয়ে মতামত জানতে বিভিন্নভাবে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে একটা চুক্তিই বাতিল করেছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি জিআরএসইর সঙ্গে টাগ বোট চুক্তি, এটা আমরা বাতিল করেছি। এটা বিবেচনা করে দেখা গেছে যে বাংলাদেশের জন্য খুব একটা লাভজনক না।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি বাতিলের কথা হচ্ছে তার অনেকগুলো বাস্তবে নেই। যেই তালিকা একজন উপদেষ্টার ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন সেটা সঠিক নয়। এই তালিকার অধিকাংশ চুক্তি বাস্তবে নেই। একটি চুক্তি আছে অনেক পুরোনো। আর কয়েকটি চুক্তি আছে যেগুলো পর্যালোচনার মধ্যে আছে, ঠিক ওই নামে নেই।
উপদেষ্টা জানান, ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম রেল সংযোগ প্রকল্প, অভয়পুর-আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ নামে কোনো প্রকল্প নেই। আশুগঞ্জ–আগরতলা করিডর নামে নেই কিছু, যে নামে আছে তা হচ্ছে আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেন প্রকল্প, এটার একটা প্যাকেজ বাতিল হয়েছে। ফেনী নদী পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নামে কিছু নেই, যেটা আছে সেটা একটা সমঝোতা স্মারক আছে, সেটা বাতিল হয়নি।
তৌহিদ হাসান জানান, কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন প্রকল্প বলে কিছু নেই, যেটা আছে সেটা একটা সমঝোতা স্মারক। এটি স্থগিত হয়নি। বন্দরের ব্যবহার সংক্রান্ত সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন চুক্তি নামে কোনো চুক্তি নেই। যেটা আছে মঙ্গলা বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহন, সেটা বাতিল হয়নি। ফারাক্কা বাঁধ সংক্রান্ত প্রকল্পে বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতা প্রস্তাব, এরকম কিছু নেই। সিলেট-শিলচর সংযোগ প্রকল্প নামে কোন প্রকল্প নেই। পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সম্প্রসারণ চুক্তি, এরকম কোন চুক্তি হয়নি।
উপদেষ্টা জানান, ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল বাতিল হয়নি, প্রক্রিয়া চলছে। আদানির বিদ্যুৎ নিয়ে যেটা বলা হয়েছে সেটা মোটামুটি ঠিক আছে। এটা পুনর্বিবেচনার জন্য আলোচনা চলছে। গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি আগামী বছর মেয়াদ শেষ হবে। এটা নবায়নের জন্য আলোচনা হবে, যোগাযোগ চলছে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। খুব যে অগ্রগতি তা না।
খবরওয়ালা/এমইউ