খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ইরান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে, যেকোনো ধরনের হামলাকে তারা নিজেদের ওপর ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) এ কথা জানান এবং সতর্ক করে বলেন, “এবার পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের পক্ষ থেকে সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।”
এই হুঁশিয়ারি আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর, যেখানে তিনি জানিয়েছেন যে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল রণতরির বহর পাঠানো হচ্ছে। তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতা জারি করেছে এবং সামরিক বাহিনীকে উচ্চ প্রস্তুতিতে রেখেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আশা করি, এই সামরিকায়ন সরাসরি সংঘাতের জন্য নয়। তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব বা ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করতে চায়, আমরা অবশ্যই জবাব দেব। তবে আমরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাব, তা প্রকাশ করছি না।”
ট্রাম্প পূর্বে বলেছেন, “আমাদের বহর ব্যবহার করার দরকার পড়বে না।” তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অঞ্চলে বিক্ষোভসংক্রান্ত উত্তেজনা নিয়ে তিনি পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরে সৈন্য ও যুদ্ধজাহাজের অবস্থান ও সক্ষমতা নিম্নরূপ:
| তারিখ | যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ | ইরানের প্রতিক্রিয়া |
|---|---|---|
| জুন ২০২৫ | মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনী বৃদ্ধি | প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান |
| জানুয়ারি ২০২৬ | যুদ্ধজাহাজ বহর পারস্য উপসাগরে পাঠানো | সর্বাত্মক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি |
| বর্তমান | সম্ভাব্য সংঘাত প্রতিরোধে নৌবাহিনী প্রস্তুত | সামরিক বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় |
মধ্যপ্রাচ্যে অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময় বাড়তি বাহিনী পাঠিয়েছে। তবে এসব সাধারণত প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হতো। এবারের উত্তেজনা ভিন্ন, কারণ ইরান স্পষ্টভাবে যেকোনো সীমিত বা সার্জিক্যাল হামলাকেও সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক চালিকাশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপও উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের উত্তেজনা পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা ও বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ রয়টার্স