খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০২২ সালে টেস্ট সিরিজে পরাজয়ের পর ভারতীয় ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ঘরে-বাইরে সমালোচনা তীব্র আকার ধারণ করে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সিরিজ হারের একদিন পরই টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন বিরাট কোহলি। দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব দেওয়ার পর হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্রিকেট অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
এর আগে কোহলি টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই), যার নেতৃত্বে ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি ফরম্যাটেই নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান বা সরিয়ে দেওয়া হয় কোহলিকে।
বিরাট কোহলি টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে প্রায় সাত বছর দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে তিনি ৬৮টি টেস্ট ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দেন এবং এর মধ্যে ৪০টিতে জয় এনে দেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টেস্ট ক্রিকেটে তিনি ভারতের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক হিসেবে বিবেচিত হন। তার নেতৃত্বে ভারতীয় দল ঘরের মাঠের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে।
নিচে কোহলির টেস্ট অধিনায়কত্বের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
| সূচক | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট টেস্ট ম্যাচ | ৬৮ |
| জয় | ৪০ |
| হার | ১৭ |
| ড্র | ১১ |
| জয় শতাংশ (প্রায়) | ৫৮.৮% |
| অধিনায়কত্বের সময়কাল | প্রায় ৭ বছর |
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোহলি তার নেতৃত্ব ছাড়ার পেছনের মানসিক চাপের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, শুরুতে তিনি দলের ব্যাটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। পরে তাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এই দায়িত্ব তার জীবনে কতটা প্রভাব ফেলছিল, তা তিনি প্রথমদিকে উপলব্ধি করতে পারেননি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চাপ বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে তিনি অনুভব করেন যে, অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময় তার মধ্যে আর কিছু অবশিষ্ট ছিল না।
কোহলি আরও বলেন, পারফরম্যান্স নিয়ে সব সময়ই প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো। তিনি যদি রান না করতেন, দল জিতলেও সমালোচনা হতো; আবার তিনি ভালো খেললেও দল হারলে প্রশ্ন উঠত। এই দুই ধরনের চাপ একসঙ্গে বহন করতে গিয়ে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করেছিল।
তিনি জানান, অনুশীলনের সময়ও তিনি চাপ অনুভব করতেন। তরুণ ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়তেন। খারাপ অনুশীলন করলে নতুন খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে পারে—এমন ভাবনাও তাকে ভাবিয়ে তুলত।
এই পরিস্থিতিতে কোহলি উল্লেখ করেন, রাহুল দ্রাবিড়ের ভাই বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন এবং তাকে পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী কোহলি আবার ক্রিকেটকে উপভোগ করার দিকে মনোযোগ দেন। এর মাধ্যমে তিনি মানসিক চাপ থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট হয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেতৃত্বের দায়িত্ব কেবল কৌশলগত নয়, মানসিকভাবেও অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। কোহলির অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতারই একটি প্রতিফলন।