নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর জান্নাতুল (৬) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার পাগলা এলাকার সনুড়া জসিউড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশু জান্নাতুল ওই এলাকার কৃষক আসাদ মিয়ার কন্যা। স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (৪ এপ্রিল) বিকেল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, সেদিন বিকেলের পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর স্বজন ও স্থানীয়রা আশপাশের এলাকায় ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
খোঁজাখুঁজির অংশ হিসেবে বিভিন্ন পুকুর, ডোবা ও জলাশয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসকেও বিষয়টি জানানো হলে তারা উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে কলমাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
দুদিন পর বুধবার সকালে স্থানীয় কৃষকরা ধানক্ষেতে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিদ্দিক হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং শিশু নিখোঁজের পর থেকে মরদেহ উদ্ধারের সময় পর্যন্ত পুরো সময়জুড়ে এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছিল।
ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| তারিখ |
ঘটনা |
| ৪ এপ্রিল |
বিকেলে জান্নাতুল নিখোঁজ হয় |
| ৪ এপ্রিল (সন্ধ্যা–রাত) |
পরিবার ও স্থানীয়দের খোঁজাখুঁজি শুরু |
| ৫ এপ্রিল |
পুকুর, ডোবা ও জলাশয়ে ফায়ার সার্ভিসের অনুসন্ধান, জিডি দায়ের |
| ৬ এপ্রিল সকাল |
ধানক্ষেতে মরদেহ উদ্ধার |
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।