খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে মাঘ ১৪৩২ | ২৮ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকায় অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলে যান। ঘাম কম হওয়া এবং তৃষ্ণার অনুভূতি দুর্বল হওয়ার কারণে মানুষ প্রায়ই মনে করেন, শীতকালে শরীরের পানি চাহিদা কমে যায়। তবে চিকিৎসা ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ঠান্ডা আবহাওয়াতেও শরীরকে পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন। শীতকালে পানি কম খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়, যা অনেক সময় চোখে পড়ে না।
শীতকালে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি
শরীর কম ঘামলেও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে আর্দ্রতা হারানো অব্যাহত থাকে। হিটার ব্যবহার, গরম কাপড় পরা এবং খোলাখুলিভাবে শীতের বাতাসে থাকা শরীরের তরল পদার্থ ক্ষয় করে। এতে ধীরে ধীরে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার সমস্যা দেখা দেয়। এর লক্ষণ হিসেবে ক্লান্তি, মাথাব্যথা, শুষ্ক মুখ, প্রস্রাবের রঙ হলুদ হওয়া এবং মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ত্বক ও চুলের সমস্যা
শীতকালে কম পানি পান ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হ্রাস করে। এর ফলে ঠোঁট ফেটে যাওয়া, হাত শুষ্ক হওয়া, চুলকানি ও ত্বক রুক্ষ হওয়া মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অভ্যন্তরীণ ডিহাইড্রেশনের প্রাথমিক চিহ্ন।
হজম ও কিডনির সমস্যা
পানি কম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের অস্বস্তি ও হজমজনিত সমস্যা বেড়ে যায়। এছাড়া কিডনিকে বর্জ্য পদার্থ বের করতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া
পর্যাপ্ত পানি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কম পানি পান করলে ঠান্ডা, ফ্লু ও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
প্রতিদিন কতটা পানি প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞরা সাধারণত প্রতিদিন ৮–১০ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেন। তবে বয়স, ওজন, শারীরিক কার্যকলাপ ও আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে এটি পরিবর্তিত হতে পারে। শীতকালে তৃষ্ণা কম থাকলেও নিয়মিত পানি পান করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
সারাদিন অল্প অল্প করে পানি পান করা।
কাছে পানি রাখার অভ্যাস করা।
হালকা গরম পানি পান করা।
খাদ্যতালিকায় স্যুপ, শাকসবজি ও পানি সমৃদ্ধ ফল অন্তর্ভুক্ত করা।
শীতকালে পানি পান ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক
| স্বাস্থ্যঝুঁকি | লক্ষণ/প্রভাব | পরামর্শ |
|---|---|---|
| ডিহাইড্রেশন | ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, শুষ্ক মুখ, প্রস্রাব হলুদ | নিয়মিত পানি পান, কাছে বোতল রাখা |
| ত্বক ও চুলের সমস্যা | শুষ্ক ত্বক, ফেটে যাওয়া ঠোঁট, চুলকানি | পানি সমৃদ্ধ খাবার, হালকা গরম পানি |
| হজমজনিত সমস্যা | কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের অস্বস্তি | পর্যাপ্ত পানি, স্যুপ ও শাকসবজি |
| কিডনিতে চাপ | অতিরিক্ত পরিশ্রম, পাথরের ঝুঁকি | পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত হজম |
| রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল | সংক্রমণ ঝুঁকি বৃদ্ধি | নিয়মিত পানি, স্বাস্থ্যকর খাদ্য |
সবমিলিয়ে, শীতকালে পানি পানকে অবহেলা করলে শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুষ্ক ত্বক, হজমজনিত সমস্যা, কিডনির জটিলতা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া এ সময়ে সাধারণ সমস্যা। তাই শীতকালে গ্রীষ্মের মতোই পর্যাপ্ত পানি পান করা স্বাস্থ্য রক্ষায় অপরিহার্য।