খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার, জুলাই হত্যার বিচার ও নির্বাচন-সহ তিনটি প্রধান দায়িত্ব পালন করার ঘোষণা দিলেও, প্রকৃত মনোযোগ এসেছে প্রতিরক্ষা খাতের ক্রয় কার্যক্রমে। ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত সমঝোতা, চুক্তি ও আলোচনায় দেশটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাকিস্তান, চীন, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে বিমান, হেলিকপ্টার, সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ ক্রয় বা আলোচনা করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিমানবাহী চীনের সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে ড্রোন উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের চুক্তি করেছে, যার প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০৮ কোটি টাকা।
প্রধান সামরিক ক্রয় ও সম্ভাব্য ব্যয়
| ক্রয় সামগ্রী | উৎস দেশ/সংস্থা | সংখ্যা/পরিকল্পনা | সম্ভাব্য ব্যয় (বাংলাদেশি টাকা) | লক্ষ্য ও মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি যুদ্ধবিমান | পাকিস্তান | ১২টি | ৮,৮৫৬ কোটি | ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, শক্তিশালী রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র |
| জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান | চীন | ২০টি | ২৭,০৬০ কোটি | এমআরসিএ, বহুমাত্রিক অভিযানে সক্ষম, ১০টি বিদ্যমান স্কোয়াড্রন বৃদ্ধি |
| ইউরো ফাইটার টাইফুন | ইউরোপ (যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, স্পেন) | ১০টি | – | সর্বাধিক ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড্ডয়ন, সুপারসনিক যুদ্ধবিমান |
| টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার | তুরস্ক | ৬টি | – | ২০ মিমি কামান, ক্ষেপণাস্ত্র, রাত-দিন অভিযানের সক্ষমতা |
| বানৌজা খালিদ যুদ্ধজাহাজ আপগ্রেড | তুরস্ক/নির্ধারিত সংস্থা | ১টি | ৬৫০ কোটি | নৌ সক্ষমতা বৃদ্ধি, সার্বক্ষণিক সার্ভিলেন্স |
| সাবমেরিন | দক্ষিণ কোরিয়া | আলোচনা প্রক্রিয়াধীন | – | সমুদ্র নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতা |
| ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার | যুক্তরাষ্ট্র | ৪টি | – | সৈন্য পরিবহন, মেডিকেল ইভাকুয়েশন, বিশেষ বাহিনী অপারেশন |
| ফিক্সড উইং যুদ্ধবিমান | যুক্তরাষ্ট্র | ২টি | – | বিমানবাহিনী সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে |
বাংলাদেশ ফোর্সেস গোল ২০৩০-এ নৌ, সেনা ও বিমানবাহিনী শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই ক্রয়সূচি অন্তর্ভুক্ত। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, বহুমাত্রিক ক্রয় উদ্যোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমালোচকরা মনে করান যে, সরকারের মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনে বেশি মনোযোগ দেওয়া।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই প্রতিরক্ষা ক্রয় কার্যক্রম আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে জড়িত। পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা, ইউরোপের ফাইটার যুদ্ধবিমান ক্রয় ও চীনা ড্রোন প্রযুক্তি হস্তান্তর—সবই বাংলাদেশের সামরিক আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।