খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দল ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো। ঘোষিত দলে অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের সমন্বয় রাখা হয়েছে। দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার টিম রিম, যিনি বর্তমানে Charlotte FC–এর হয়ে খেলছেন।
এবারের বিশ্বকাপ হবে টিম রিমের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বৈশ্বিক আসর। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক অংশগ্রহণের কারণে তাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ খেলোয়াড়সমৃদ্ধ এই স্কোয়াডে রিমের উপস্থিতি রক্ষণভাগের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
গোলরক্ষক বিভাগে জায়গা পেয়েছেন ক্রিস ব্র্যাডি, ম্যাট ফ্রিজ এবং ম্যাট টার্নার। তাদের মধ্যে ম্যাট টার্নার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন এবং অতীতেও জাতীয় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রক্ষণভাগে কোচ পচেত্তিনো আস্থা রেখেছেন একাধিক ইউরোপভিত্তিক ও মেজর লিগ সকারে খেলা ফুটবলারের ওপর। স্কোয়াডে রয়েছেন সার্জিনো ডেস্ট, মার্ক ম্যাকেঞ্জি, ক্রিস রিচার্ডস, অ্যান্টনি রবিনসন, মাইলস রবিনসন, জো স্ক্যালি এবং অস্টন ট্রাস্টি। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা কয়েকজন ডিফেন্ডারের অন্তর্ভুক্তি দলটির রক্ষণভাগকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মাঝমাঠে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ভরসা হিসেবে থাকছেন টাইলর অ্যাডামস ও ওয়েস্টন ম্যাককেনি। এছাড়া স্কোয়াডে আছেন ব্রেন্ডন অ্যারনসন, জিওভান্নি রেইনা, মালিক তিলম্যান, টিম উইয়াহ, সেবাস্টিয়ান বারহল্টার এবং ক্রিস্টিয়ান রোলডান। ইউরোপের শীর্ষ লিগ ও উত্তর আমেরিকার ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত খেলা এই ফুটবলারদের ওপরই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণভাগে সহায়তার দায়িত্ব থাকবে।
আক্রমণভাগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তারকা হিসেবে থাকছেন ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ। বর্তমানে AC Milan–এ খেলা এই ফরোয়ার্ড দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত। তার সঙ্গে আক্রমণভাগে রয়েছেন ফ্লোরিয়ান বালোগুন, রিকার্ডো পেপি, হাজি রাইট এবং আলেহান্দ্রো জেন্দেজাস।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। স্বাগতিক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাড়তি প্রত্যাশা রয়েছে। ঘরের মাঠ, পরিচিত পরিবেশ এবং দর্শকসমর্থনকে কাজে লাগিয়ে দলটি এবার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক স্কোয়াডে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে খেলা ফুটবলারের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক লিগে খেলার অভিজ্ঞতা দলটির কৌশলগত ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে তরুণ খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
মাউরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে দলটি আক্রমণাত্মক ও গতিনির্ভর ফুটবল কৌশলের দিকে এগোচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতাগুলোকে সামনে রেখে এই স্কোয়াডের সমন্বয় ও কৌশলগত ভারসাম্য যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।