খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলে মিলিশিয়া-নিয়ন্ত্রিত একটি খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ২০০ জনের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর থেকে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) কঙ্গোর সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, নর্থ কিভু প্রদেশের একটি খনিতে আকস্মিক ভূমিধস ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বলা হয়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত খনিটিতে শত শত শ্রমিক কাজ করছিলেন। ভারী বৃষ্টিপাতের পর দুর্বল পাহাড়ি ঢাল ধসে পড়ে শ্রমিকদের বড় একটি অংশ মাটিচাপা পড়ে যান। অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
কিনশাসা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ঘটনাস্থলটি মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সরকারি উদ্ধারকারী দল সেখানে দ্রুত পৌঁছাতে পারেনি। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি, যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ভারী যন্ত্রপাতির অভাব উদ্ধার তৎপরতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে মাটি সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন, তবে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় কাজ খুবই ধীরগতির।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পর এম২৩ সশস্ত্র গোষ্ঠী ডিআর কঙ্গোর সম্পদসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এই অঞ্চলটি স্বর্ণ, কোলটান, টিন ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজে ভরপুর। খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই এখানে সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে রুয়ান্ডার সহায়তায় এম২৩ নর্থ কিভু প্রদেশের রুবায়া খনির নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই খনি অঞ্চলটি কোলটান উত্তোলনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত, যা আধুনিক ইলেকট্রনিক শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সেখানে অনিরাপদ ও অবৈধ খনন কার্যক্রম আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তা মানদণ্ড উপেক্ষা করে অতিরিক্ত খননের ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব কঙ্গোর খনিগুলোতে ভূমিধস নতুন কোনো ঘটনা নয়। অপরিকল্পিত খনন, পরিবেশগত ক্ষয়, বন উজাড় এবং নিয়মিত ভারী বৃষ্টিপাত এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। স্থানীয় শ্রমিকরা দারিদ্র্যের কারণে ঝুঁকি জেনেও এসব খনিতে কাজ করতে বাধ্য হন।
নিম্নে ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দেশ | ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো |
| প্রদেশ | নর্থ কিভু |
| ঘটনা | খনিতে ভূমিধস |
| সম্ভাব্য প্রাণহানি | কমপক্ষে ২০০ জন |
| নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী | এম২৩ |
| খনিজ সম্পদ | কোলটান ও অন্যান্য খনিজ |
এই দুর্ঘটনা আবারও পূর্ব কঙ্গোর খনি নিরাপত্তা, মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খনিজ সম্পদের নৈতিক ব্যবহারের প্রশ্ন সামনে এনেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দ্রুত নিরপেক্ষ উদ্ধারকাজ, নিহতদের সঠিক হিসাব এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে আন্তর্জাতিক নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।