খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে মাঘ ১৪৩২ | ৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক ছিনতাইকারী পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের মারধর করার সঙ্গে সঙ্গে একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর দুই সদস্য গুরুতর আহত হন।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সৈয়দপুর উপজেলার শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের খালেদ মার্কেটের সামনে। হামলাকারী মহসিন আলী মন্টু একজন প্রতারণা মামলার আসামি। তিনি সৈয়দপুর পৌর এলাকার মুন্সিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা এবং শহরের খালেদ মার্কেটে তার গার্মেন্টস ব্যবসা পরিচালনা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে পিবিআই-এর একটি টিম মহসিনকে গ্রেপ্তারের জন্য সৈয়দপুরে আসে। তাকে তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আটক করার সময় মহসিন চিৎকার করে “ভুয়া ডিবি পুলিশ” বলে দাবি করেন। এই চিৎকারে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
হামলার সময় পিবিআই-এর মাইক্রোবাসও ভাঙচুর করা হয় এবং আসামিকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে সৈয়দপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিবিআই সদস্যদের উদ্ধার করে আহতদের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সৈয়দপুর হাসপাতালের চিকিৎসা প্রদান করে।
সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার একটি মামলায় পিবিআই টিম মহসিনকে গ্রেপ্তার করতে আসে। আটক ব্যক্তি ভুয়া ডিবি পুলিশ দাবি করায় স্থানীয়রা পিবিআই টিমের উপর হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। আহত দুই পিবিআই সদস্যকে বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | সৈয়দপুর, শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, খালেদ মার্কেট |
| সময় | ৩ ফেব্রুয়ারি, বিকাল |
| আক্রান্ত | পিবিআই-এর ২ সদস্য গুরুতর আহত |
| হামলাকারী | মহসিন আলী মন্টু, প্রতারণা মামলার আসামি |
| হামলার কারণ | মহসিন ভুয়া ডিবি পুলিশ দাবি, স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া |
| ভাঙচুর | পিবিআই-এর মাইক্রোবাস ক্ষতিগ্রস্ত |
| থানা পুলিশ পদক্ষেপ | পিবিআই টিম ও গাড়ি উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা, মামলা প্রক্রিয়াধীন |
| বর্তমান পরিস্থিতি | পলাতক আসামি ধরতে অভিযান শুরু |
সৈয়দপুর থানার ওসি আরও বলেন, “যারা পিবিআই সদস্যদের আহত করেছে এবং গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামিকে ধরার জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।”
এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ এবং ব্যবসায়ীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থির হলেও থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পিবিআই এবং স্থানীয় পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।