খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পুরান ঢাকার প্রাণবন্ত সংস্কৃতি, মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ গ্রহণ করে গভীর মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সম্প্রতি স্ত্রী ডিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঐতিহাসিক এই জনপদে সময় কাটান। ঢাকাইয়া আতিথেয়তা, অলিগলির জীবনঘনিষ্ঠ দৃশ্য এবং শতাব্দীপ্রাচীন স্থাপনার সংরক্ষণকাজ কাছ থেকে দেখে রাষ্ট্রদূত দম্পতি সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের মেলবন্ধনের প্রশংসা করেন।
সফরের শুরু হয় লালবাগ কেল্লা পরিদর্শনের মাধ্যমে। মুঘল আমলের এই দুর্গনগরীর হাম্মামখানা বা রাজকীয় স্নানাগার ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন-এর আর্থিক সহায়তায় হাম্মামখানাসহ কেল্লার কয়েকটি অংশ সম্প্রতি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। সংস্কারকাজের নান্দনিকতা ও ঐতিহাসিক স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রাখার প্রয়াসে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে যেভাবে স্থানটি দেখেছিলেন, বর্তমানে তার চেহারা ও পরিবেশে স্পষ্ট ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
লালবাগ কেল্লা থেকে বেরিয়ে রাষ্ট্রদূত দম্পতি যান সপ্তদশ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা হোসেনী দালানে। সেখানে কিছু সময় কাটিয়ে তারা পুরান ঢাকার চিরচেনা ব্যস্ত অলিগলি ধরে হাঁটেন। সরু রাস্তার দুই পাশে সারি সারি পুরোনো ভবন, দোকানপাট, কারিগরি কর্মশালা আর মানুষের দৈনন্দিন কর্মচাঞ্চল্য রাষ্ট্রদূতকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। আধুনিক নগরজীবনের যান্ত্রিকতার মাঝেও পুরান ঢাকার মানুষের আন্তরিকতা ও সামাজিক বন্ধন তাকে রোমাঞ্চিত করেছে বলে তিনি জানান।
এক ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নেওয়া প্রকল্পগুলো কেবল স্থাপনা রক্ষা করে না, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ইতিহাসবোধ ও পরিচয়কে শক্তিশালী করে। তার মতে, এমন উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নগরের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ঢাকাইয়া আতিথেয়তায় আপ্যায়িত হয়ে তিনি স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদও নেন এবং পুরান ঢাকার রন্ধনপ্রণালীর বৈচিত্র্যের প্রশংসা করেন।
এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক ভ্রমণ নয়; বরং দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সহায়তা স্থানীয় পর্যায়ে পর্যটন, গবেষণা এবং ঐতিহ্যচর্চাকে উৎসাহিত করতে পারে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
| স্থান | সময়কাল/ধরণ | গুরুত্ব | সংরক্ষণ উদ্যোগ |
|---|---|---|---|
| লালবাগ কেল্লা (হাম্মামখানা) | মুঘল আমল, ১৭শ শতক | রাজকীয় স্থাপত্য ও নগর ইতিহাসের নিদর্শন | প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার |
| হোসেনী দালান | ১৭শ শতক | ধর্মীয় ও সামাজিক ইতিহাসের কেন্দ্র | কাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণ |
| পুরান ঢাকার অলিগলি | ঐতিহাসিক জনপদ | জীবনযাপন, কারুশিল্প ও খাবারের ঐতিহ্য | ঐতিহ্য সংরক্ষণে স্থানীয় উদ্যোগ |
সংরক্ষণকাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে পুরান ঢাকার স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও সুসংরক্ষিত হবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত দম্পতি সফর শেষ করেন।