খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে মাঘ ১৪৩২ | ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা। ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সংস্কৃতিকর্মী সাইদ খান সাগর। হঠাৎ তার শান্তি বিঘ্নিত হয় নির্বাচনী প্রচারণার মাইকের তীব্র শব্দে। অতিষ্ঠ হয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে মাইক বন্ধ করে দেয়।
সাগর প্রথম আলোকে বলেন, “নির্বাচনী শব্দদূষণ সাধারণ জীবনযাপনে বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে। রাত ৮টার পর মাইকের ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও এটি মানছে না কেউ।”
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে শব্দদূষণ দীর্ঘদিনের নাগরিক দুর্ভোগ। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবিরাম মাইকিং, প্রচারগাড়ির উচ্চ শব্দের গান ও স্লোগান সেই দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। নীরব এলাকা, আবাসিক এলাকা, বাজার, হাসপাতাল—কোথাও রেহাই পাচ্ছে না।
তবে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এ বলা আছে:
প্রচারণায় মাইক, সাউন্ড সিস্টেম ও লাউডস্পিকার ব্যবহার বেলা ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।
শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবল অতিক্রম করতে পারবে না।
সরকারঘোষিত নীরব এলাকায় প্রচারণার যেকোনো শব্দপ্রদর্শন নিষিদ্ধ।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও মেট্রোপলিটন পুলিশকে নিজেদের এলাকায় নীরব এলাকা ঘোষণা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
নিম্নে প্রধান নীরব এলাকা ও প্রযোজ্য নিয়মের সংক্ষিপ্ত তালিকা দেখানো হলো:
| এলাকা/প্রতিষ্ঠান | নীরব এলাকা রেডিয়াস | প্রযোজ্য বিধি | ঘোষণা তারিখ |
|---|---|---|---|
| হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালত, অফিস | ১০০ মিটার | প্রচারণা নিষিদ্ধ | ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ |
| গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন (ঢাকা উত্তর) | পুরো এলাকা | প্রচারণা নিষিদ্ধ | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ |
শাহ রাফায়েত চৌধুরী, গুলশান-১-এর বাসিন্দা, প্রথম আলোকে বলেন, “এলাকা সরকারঘোষিত নীরব হলেও প্রতি পাঁচ মিনিটে দাঁড়িপাল্লা ও নয় ধানের শীষের প্রচারণা চলছে। কখনো অটোরিকশা, কখনো রিকশায় মাইক বেঁধে চলছে শব্দদূষণ।” তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি না মানা প্রার্থীরা একটি নেতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করছেন।
তবে সমস্যা শুধু গুলশান নয়। রাফায়েত জানান, “আমার অফিস নিকেতনের আশেপাশেও একই পরিস্থিতি। নাগরিকরা বিশ্রাম, চিকিৎসা বা পড়াশোনায় প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন।”
নির্বাচনী প্রচারণার সময় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি ও জনগণকে সচেতনতা বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।