খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে বিশাল পরিমাণ নগদ অর্থসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, তাঁর কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম পিপিএম। তিনি জানান, আটককৃত বেলাল উদ্দিনকে বিমানবন্দরের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে তার কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ রয়েছে।
শেখ জাহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, “ধৃত ব্যক্তির কাছ থেকে জব্দকৃত টাকা মেশিনে গণনা করা হবে। গণনা শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই গণমাধ্যমের সামনে এই টাকা গণনা করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এ ধরনের ঘটনা ভোটের আগে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন বিপুল পরিমাণ অর্থ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করার উদ্দেশ্যে হতে পারে। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভোটের আগের দিনে জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতার এই ধরনের গ্রেফতার সমাজে উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জব্দকৃত অর্থ এবং ধৃত ব্যক্তির তথ্য সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| ধৃতের নাম | পদবি | ধৃত স্থান | জব্দ অর্থ (প্রায়) | পুলিশ সুপার | প্রাথমিক মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|
| বেলাল উদ্দিন | জেলা জামায়াত আমির | সৈয়দপুর বিমানবন্দর | ৫০,০০,০০০ টাকা | শেখ জাহিদুল ইসলাম পিপিএম | প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে |
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতেও কিছু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে বিস্তারিত তথ্য এখনও গোপন রাখা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার মতো কোনো অর্থনৈতিক চাপ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ব্যাহত করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে টাকা গণনা শেষ হলে ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, প্রশাসন ইতিমধ্যেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নিশ্চিত করছে যে ভোটপ্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে।
বিস্তারিত তথ্য অনুসন্ধান ও আদালতের অনুমোদনের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ধৃত ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে এবং তদন্ত চলমান।