খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলা সংগীত জগতের আকাশ থেকে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র খসে পড়েছে বছর দুয়েক আগে, কিন্তু তাঁর সুরের মূর্ছনা আজও কোটি ভক্তের হৃদয়ে অম্লান। তিনি আর কেউ নন, বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের প্রবাদপুরুষ শাফিন আহমেদ। আজ তাঁর ৬৫তম জন্মতিথি। জন্মদিন নিয়ে বাংলা ভাষায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান ‘আজ জন্মদিন তোমার’—প্রিন্স মাহমুদের কথা ও সুরে যে গানটি গেয়ে শাফিন আমাদের প্রতিটি উদযাপনের অংশ হয়ে উঠেছিলেন, আজ সেই গানের স্রষ্টারই জন্মদিন।
১৯৬১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এক সম্ভ্রান্ত সংগীত পরিবারে জন্ম নেন শাফিন আহমেদ। তাঁর ধমনীতে বইছিল সুরের ধারা। তাঁর মাতা ছিলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি নজরুলসংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগম এবং পিতা ছিলেন প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক কমল দাশগুপ্ত। শৈশব থেকেই বাবা-মায়ের সান্নিধ্যে সংগীতের হাতেখড়ি হয় তাঁর। যদিও তিনি বড় হয়েছেন উচ্চাঙ্গসংগীতের আবহে, কিন্তু পশ্চিমা সংগীতের প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল জন্মগত। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান, যা তাঁর পরবর্তী মিউজিক্যাল ক্যারিয়ারে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক ধারার সংমিশ্রণ ঘটাতে সাহায্য করেছিল।
আশির দশকে বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতের যে জোয়ার শুরু হয়েছিল, তার অন্যতম কাণ্ডারি ছিল ‘মাইলস’। শাফিন আহমেদ তাঁর ভরাট কণ্ঠ আর চমৎকার বেজ গিটার বাদন শৈলী দিয়ে মাইলসকে নিয়ে গিয়েছিলেন অনন্য উচ্চতায়। তিনি কেবল একজন কণ্ঠশিল্পীই ছিলেন না, বরং একজন দক্ষ সুরকার ও গীতিকার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর গাওয়া ‘ফিরিয়ে দাও’, ‘ধিকি ধিকি’, ‘জাদু’, ‘পাহাড়ি মেয়ে’, এবং ‘নীলা’র মতো গানগুলো আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। মাইলস থেকে আলাদা হওয়ার পর শেষ জীবনে তিনি ‘ভয়েস অব মাইলস’ নামে নিজস্ব একটি দল নিয়ে সংগীতের পথচলা অব্যাহত রেখেছিলেন।
নিচে শাফিন আহমেদের জীবন ও কর্মের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| পুরো নাম | শাফিন আহমেদ |
| জন্ম তারিখ | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬১ |
| পারিবারিক পরিচয় | পিতা: কমল দাশগুপ্ত; মাতা: ফিরোজা বেগম |
| প্রধান ব্যান্ড | মাইলস (Miles) |
| জনপ্রিয় অ্যালবাম | প্রতিশ্রুতি, প্রত্যাশা, প্রত্যয়, প্রবাহ |
| প্রয়াণ | ২৫ জুলাই, ২০২৪ |
শাফিন আহমেদ কেবল গানের জগতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়েও ছিলেন সমান সচেতন। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন এবং জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে চেয়েছিলেন। তাঁর ব্যক্তিত্বে ছিল এক রাজকীয় আভিজাত্য, যা মঞ্চে এবং মঞ্চের বাইরে তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখত। আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া গানগুলোই তাঁকে অমর করে রাখবে। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে শাফিন আহমেদ একটি অধ্যায়, একটি আবেগ এবং একটি অবিরাম অনুপ্রেরণার নাম।