খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থককে নৃশংসভাবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে পুঠিয়ার বিড়ালদহ গ্রামে হামলার শিকার হন আহসান হাবীব। আহত অবস্থায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত আহসান হাবীব বলেন, তিনি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক (শিমুল)-এর ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে কাজ করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা এ কারণে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করেন। হামলাকারীরা দেশি অস্ত্র ও লোহার রড ব্যবহার করে দেহের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখা যায়, আহসানের ডান হাতের দুই আঙুল ভাঙা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি জানান, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর গ্রামের রশিদসহ ১৫–১৬ জন দেশি অস্ত্রসহ উপস্থিত হন এবং তাঁকে ঘিরে ধরে বলেন, “শালা, তুই শিমুলের ভোট করেছিস, আজ তোকে জানে মেরে ফেলব।” এরপর রশিদের ছেলে রাসেল লোহার রড দিয়ে আহসানের মাথায় আঘাত করেন।
হামলাকারীদের মধ্যে একই গ্রামের আজাদ (৫০), শাকিল (৩৫), মারুফ (২১), লাল্টু (১৯), ইমনসহ আরও সাত–আটজন লাঠি, হকিস্টিক এবং লোহার রড নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। আহসান দৌড়ে চালের দোকানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু হামলাকারীরা তাঁকে মাটিতে ফেলে পেটাতে থাকেন। স্থানীয়রা বাধার চেষ্টা করলেও তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রহমান বলেন, “নজরুল ইসলাম সহিংসতার কঠোর বিরোধী। তিনি সবসময় অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পক্ষে। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, তাদের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।”
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, “আমি ঘটনার কথা শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
| ক্রমিক | নাম | বয়স | হামলার ধরন | আঘাতের স্থান | অস্ত্র/যন্ত্র |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | আহসান হাবীব | – | মারধর | মাথা, হাত, শরীর | লোহার রড, লাঠি, হকিস্টিক |
| ২ | রশিদের ছেলে রাসেল | ৩২ | আক্রমণকারী | – | লোহার রড |
| ৩ | আজাদ | ৫০ | সহায়ক হামলাকারী | – | লাঠি, রড |
| ৪ | শাকিল | ৩৫ | সহায়ক হামলাকারী | – | লাঠি, রড |
| ৫ | মারুফ | ২১ | সহায়ক হামলাকারী | – | লাঠি, রড |
| ৬ | লাল্টু | ১৯ | সহায়ক হামলাকারী | – | লাঠি, রড |
| ৭ | ইমন | ২২ | সহায়ক হামলাকারী | – | লাঠি, রড |
এই ঘটনায় নির্বাচনী সহিংসতা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক নেতারা সতর্ক করে দিয়েছেন, আগামী দিনে এমন ঘটনায় যেন পুনরায় উপদ্রব সৃষ্টি না হয়।