খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেট সংলগ্ন জোবরা গ্রামে শনিবার রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় ফেসবুকে লাইভ করা কয়েকজন ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে, স্থানীয় বাসিন্দারা শিক্ষার্থীদের বাসা ভাড়া দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
আইন বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, ‘শনিবার রাতে আমাদের বাসার নিচেই শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় আমরা কয়েকজন ফেসবুকে লাইভ করি। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা দরজা ভাঙার চেষ্টা করে ও ধর্ষণের হুমকি দেয়। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর ‘মোরাল পুলিশিং, ধর্ষণের হুমকি, সাইবার বুলিং ও প্রশাসনের অবহেলা’ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে ‘নারী অঙ্গন’ নামের একটি সংগঠন খোলাচিঠি দিয়েছে।
খোলাচিঠিতে বলা হয়েছে, এক বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। স্বয়ং প্রক্টর নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, সান্ধ্য আইন জারি করেছেন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নারী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করেছেন। ফলে নারী শিক্ষার্থীরা বারবার অনলাইন ও অফলাইনে নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
সংগঠনটি খোলাচিঠিতে সাত দফা দাবি তুলে ধরেছে। সেগুলো হলো- আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা ও চিকিৎসা ব্যয় প্রশাসনের বহন, স্থানীয় সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার, ক্যাম্পাসের ভেতরে-বাইরে শতভাগ নিরাপত্তা ও আবাসন ভাতা চালু, পরিবহনে ই-কার ও চক্রাকার বাস চালু, যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর করা, ১ ও ২ নম্বর গেট ও রেলক্রসিং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ব্যর্থ হওয়ায় উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ।
জোবরা ও ফতেপুর এলাকার বাসিন্দারা একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, অত্র এলাকায় কটেজ বা ফ্লাট বাসায় কোনো ছাত্র-ছাত্রীকে ভাড়া না দেওয়া যাবে না। সবাইকে এ আদেশ পালন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। মুকিত উদ্দিন তাউসিফ নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘ভার্সিটি প্রশাসন যদি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে ভার্সিটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আমাদের জীবনই সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাবে, যেটার নিরাপত্তা প্রশাসন দিতে পারছে না।’
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান করছে।
খবরওয়ালা/শরিফ