খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১১ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচন কমিশন (ইসি) অভিমুখে মিছিল আটকে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রসহ বহু এমপিকে আটক করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাঁদের সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, কংগ্রেস নেতা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত, তৃণমূল কংগ্রেসের সাগরিকা ঘোষসহ ৩০ জনের বেশি এমপিকে আটক করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে বিরোধী এমপিরা বিহারে ভোটার তালিকার নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) ইস্যুতে আলোচনার দাবি জানাতে সংসদে বিক্ষোভ করেন। স্পিকার ও ডেপুটি চেয়ারম্যান দাবি নাকচ করলে অধিবেশন মুলতবি হয় এবং বিরোধীরা ইসি অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। মল্লিকার্জুন খাড়গে, শারদ পাওয়ার, অখিলেশ যাদব, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়সহ বিভিন্ন দলের দুই শতাধিক এমপি ব্যানার-পোস্টার হাতে মিছিল করেন।
সংসদ মার্গে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়। ব্যারিকেড ডিঙানোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি হয়। নারী এমপিরা রাস্তায় বসে পড়েন, আর মহুয়া মৈত্র অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ অনেককে আটক করে বাসে তোলে। আম আদমি পার্টির এমপিরাও এতে অংশ নেন।
পুলিশের দাবি, ইসি কেবল ৩০ জন এমপিকে কার্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু বিক্ষোভকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় আটক করা হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগ ও হেনস্তা করা হয়েছে।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এটা সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। ইসির পক্ষপাত বন্ধ করতে হবে।’ কংগ্রেস নেতা শশী থারুর রাহুলের অভিযোগ সমর্থন করে বলেন, ‘প্রতিটি প্রশ্নই জরুরি, উত্তর এড়িয়ে গেলে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হবে।’
ইসি জানিয়েছে, বেলা ১১টার দিকে ৩০ জন এমপিকে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময়ই সংসদ মার্গে পুলিশের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘর্ষ চলছিল। মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, স্মারকলিপি দেওয়ার অধিকারও পুলিশ কেড়ে নিয়েছে।
খবরওয়ালা/এন