খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে ফাল্গুন ১৪৩০ | ২৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | 1148 Dhu al-Hijjah 5
মোশারফ হোসেন \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বান্ধবীর বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কলেজ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে যানা গেছে। গত মঙ্গলবার (২৭ শে ফেব্রুয়ারি) রাত ১২ টার দিকে নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। রাতেয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে কুমারখালী থানা পুলিশ । নিহত ছাত্রীর নাম মোছা. রিয়া খাতুন (১৬)। সে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের মোঃ. রাশিদুল মালিথার মেয়ে এবং কুমারখালী মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। স্বজন ও এলাকাবাসীর ভাষ্য মতে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১২ টার সময় বাড়ির লোকজন ওয়াজ মাহফিল থেকে এসে ঘরের মধ্যে রিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। আরো জানা যায়, রিয়ার সহপাঠী নুসরাত এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। একে অপরকে ছাড়া কোন দিন থাকে নাই। নুসরাতের বিয়ে হয়ে গেলে রিয়া খুব কষ্ট পায় সেই কারণে হয়তো রিয়া আত্মহত্যা করতে পারে বলে তারা জানান। নিহতের ফুফু টুম্পা খাতুন জানান, তার ভাতিজি রিয়ার সঙ্গে সহপাঠী নুসরাতের খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তারা একজন অপরজনকে একদিন না দেখে থাকতে পারত না। দুই বান্ধবী ওয়াদাবদ্ধ ছিল পড়ালেখা শেষ করে একসঙ্গে বিয়ে করার; কিন্তু হটাৎই নুসরাতকে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয় এবং বিয়ের পর নুসরাত বাবার বাড়িতে আসলে রিয়া তাকে স্বামীর বাড়ি যেতে নিষেধ করে। নুসরাত তার অনুরোধ উপেক্ষা করে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ায় রিয়া নিজেকে গৃহবন্দি রাখেন। মঙ্গলবার পার্শ্ববর্তী ওয়াজ মাহফিলে রিয়াকে যাওয়ার জন্য পরিবারের সবাই অনুরোধ করলে সে শরীর খারাপের অজুহাত দেখিয়ে বাড়িতে থাকে। রাত ১২টার দিকে তারা বাড়িতে ফিরে রিয়াকে ডাকাডাকির একপর্যায়ে তার বসত ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকিবুল ইসলাম আকিব বলেন, মঙ্গলবার রাতে হাসপাতাল থেকে কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ টি উদ্ধার করে কুমারখালী থানায় রাখা হয়। বুধবার সকালে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।