খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪
কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতের পরিবারের মামলায় ১৬ জন আসামী কারাগারে থাকলেও তাদের ২০ টি পরিবার গ্রামে ঢুকতে পারছেননা। বীর নিবাসসহ প্রায় ১০ টি বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে নিহতের লোকজন। কেউ মারা গেলে কবর দিতে এলাকায় আসতে পারছেনা বলে জানা যায়। হত্যা মামলার আসামিদের পরিবারের দাবী রমজান মাসে তারা বাড়ি ফিরতে চান। প্রতিবেশীদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে চান। সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান। ঘটনাটি ঘটেছে কয়া ইউনিয়ন এর বেড়কালোয়া গ্রামে। গত সোমবার (১৮ মার্চ) কয়া ইউনিয়ন এর বেড়কালোয়া সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বসতঘর যেন ধ্বংসস্তুপ। সেমিপাকা ঘরের দরজা জানালা নেই, জানালার গ্রীল দেয়াল থেকে খোলা এবং ঘরের দেয়াল পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হয়েছে। জনমানবশূন্য বাড়ির কংকাল পরে আছে। বাড়িঘর ফেলে প্রাণ ভয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে হত্যা মামলার আসামীদের স্বজনরা আত্নীয় বাড়িতে অবস্থান করছেন। আসামী বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেক মিয়ার স্ত্রী হালিমা খাতুন জানান, পূর্ব শত্র“তার জেরে জানুয়ারি মাসের ১৩ তারিখে একই এলাকার জেলেপাড়ার মৃত বদরউদ্দিন শেখের ছেলে জিয়ার ও আলতাফের সাথে তার ছেলে শিপন ও নয়ন সহ কয়েকজনের গন্ডগোল হয়। এই ঘটনায় জিয়ার ও আলতাফ আহত হবার ২ দিন পর জিয়ার মারা যান। জিয়ার মারা যাবার সংবাদ এলাকায় পৌঁছালে তাদের প্রায় ১০ টি বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট হয়। তার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা কোন ঘটনার সাথে জড়িত না থাকলেও তার স্বামী সহ মোট ১৬ জনের নামে হত্যা মামলা হয়। তার স্বামী, ছেলে ও অন্যান্য ১৬ জন আসামিই কারাগারে রয়েছে। কিন্তু জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ থেকেই তারা ২০ টি পরিবার বাড়ি ছাড়া। বিভিন্ন আত্নীয় স্বজনদের বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উপার্জন না থাকায় খেয়ে না খেয়ে পার করছেন প্রতিটা দিন। বাচ্চাদের লেখাপড়ার প্রচন্ড ব্যাঘাত হচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসে সকলে ইবাদতে মসগুল থাকলেও তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তারা বাড়িতে ফিরতে চান এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন। কুমারখালী থানার ওসি মো. আকিবুল ইসলাম জানান, বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত দুইবার মামলা হয়েছে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে। এবং আসামিদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকায় যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের সাথে প্রসাশনিকভাবে বসে হত্যা মামলার আসামিদের পরিবারের লোকজন তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানান।
খবরওয়ালা সম্পর্কে: