খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৪

রঞ্জুউর রহমান ॥ কুষ্টিয়াসহ সারা বাংলাদেশে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণে শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এছাড়াও তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নামার কারণে জেলা শিক্ষা অফিস ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৩ ও ২৮ জানুয়ারি কুষ্টিয়া জেলা ব্যাপি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করা হয়। মাত্রারিক্ত ঠান্ডার কারণে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেই। সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের শয্যা সংখ্যা মাত্র ২০টি। অথচ এই ২০ শয্যার বিপরীতে ঐ ওয়ার্ডে গতকাল রবিাবর (২৮ জানুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১২৮ জন। যা ঐ ওয়ার্ডের ধারণ ক্ষমতার ৬ গুণেরও বেশী। অতিরিক্ত এই রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালের নার্স ও ডাক্তার সহ কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের। এছাড়াও কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য রয়েছে মাত্র ১০ শয্যা। আর সেই ১০ শয্যার বিপরীতে গতকাল রবিাবর (২৮ জানুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তিকৃতে রোগী ছিলো ৫১ জন। যা ঐ ওয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতার ৫ গুণেরও বেশী। কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্হিবিভাগে প্রতিদিন শতাধিক সেবা নিতে আসে আরো শতাধিক শিশু রোগী এবং হাসপাতালে ভর্তি ও বহির্বিভাগের সেবা নিতে শিশুদের ৭৫ শতাংশই ঠান্ডাজনিত রোগ নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত। গতকাল রবিবার (২৮ জানুয়ারি) সরেজমিনে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে রোগী। ঐ সকল ওয়ার্ডের ভিতরে জায়গার সংকুলন না হওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে মেঝেতে এবং বারান্দায় জায়গা করে নিয়েছে রোগী এবং স্বজনেরা। মিরপুর উপজেলার সাহেবনগর গ্রামের সাজেদা খাতুনের কন্যা সুফিয়া গত ২৫ জানুয়ারি ঠান্ডা ও কাশি নিয়ে ভর্তি হয় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে। জানতে চাইলে সাজেদা বলেন, আমার বাচ্চা গত চার দিন ধরে ঠান্ডা ও কাশি নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। হঠাৎ করে শীত বেড়ে যাওয়ায় আমার বাচ্চার নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিলো। সেই সময় আমি আমার বাচ্চাকে হাসপাতালে জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ভর্তি করার জন্য বলে। আমার বাচ্চার এখন আগের থেকে অনেকটাই ভালো আছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুরের বাসিন্দা রকিব গত ২ দিন যাবত বাচ্চা নিয়ে রয়েছেন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে। তার গত ১৫ দিন যাবত বাচ্চা ঠান্ডা ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত। জানাতে চাইলে রকিব বলেন, প্রথমে আমি আমার বাচ্চাকে বাড়িতে চিকিৎসা দিচ্ছিলাম কিন্তু অবস্থা অবনতি হওয়ায় গত দুইদিন আগে হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু হাসপাতালে আনার পর দেখি আমার বাচ্চার মত অসংখ্য বাচ্চা ঠান্ডা নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। আজ দুই দিন যাবত হাসপাতালের বারান্দায় রেখে আমার বাচ্চার চিকিৎসা নিচ্ছি। বেড না পাওয়ার কারণে আমাদের ও বাচ্চার অনেক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কিছু করার নাই। তাই বাধ্য হয়েই এভাবেই চিকিৎসা নিচ্ছি। কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তাপস কুমার সরকার বলেন, রোগীর চাপ অনেক বেশী। সেই কারণে বাধ্য হয়েই এই জায়গার ভিতরে রোগীদের রাখতে হয়। কিন্তু চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অন্যান্য কর্মচারী, জনবল, ডাক্তার এবং নার্স বেশি দেওয়া আছে। আমাদেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আমরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।