খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৪ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে কম্বোডিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী সান চানথোল এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
চানথোল বলেন, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখায় ট্রাম্পকে চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে তার সরকার। আগে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হলেও, এবারই প্রথম কোনও স্বাধীন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হলো।
রাজধানী নমপেনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সান চানথোল বলেন, থাইল্যান্ডের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিরসনে ট্রাম্প যে মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা পালন করেছেন, সেটিই মনোনয়নের প্রধান কারণ। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আহ্বান ও তৎপরতার ফলেই মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় আমাদের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা অবসান হয়েছে। তিনি নিশ্চয়ই নোবেল পাওয়ার যোগ্য।’
দক্ষিণ এশিয়ার দুই বৈরী প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গত জুনে জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নতুন করে উত্তেজনা। সংঘাত এড়াতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ওই সফরের পর তিনি দেশে ফিরে ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেন।
এরপর জুলাই মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও ট্রাম্পকে একই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেন।
সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আমি আব্রাহাম চুক্তি, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা হ্রাসসহ আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টায় অংশ নিয়েছি। আমি জানি, এসব কিছুর জন্য আমি নোবেল পাব না—তবু মানুষ দেখছে আমি কী করেছি। আমার কাছে এটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
নোবেল শান্তি পুরস্কার মনোনয়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গোপনীয়। সাধারণত বিভিন্ন দেশের আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রার্থীদের মনোনয়ন দেন। এই মনোনয়ন যাচাই করে নরওয়ের পার্লামেন্টের একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে এবং পার্লামেন্টে গণভোটের মাধ্যমে পুরস্কার বিজয়ী নির্ধারণ করে। প্রতি বছর অক্টোবর মাসে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে, পুরস্কার প্রদান করা হয়।
খবরওয়ালা/এন