খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে মাঘ ১৪৩২ | ১৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্রসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ী বাবুর বাজার এলাকার একটি বাড়িতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে অপরাধীদের আস্তানা থেকে একটি পিস্তল ও তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে বহিরাগতদের আনাগোনা এবং সন্দেহভাজন কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া তিন মাথা রেলগেট সংলগ্ন যুব উন্নয়ন ক্যাম্পের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ তমালের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল বিকেলে ৪টার দিকে বেড়েরবাড়ী বাবুর বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে জনৈক খোকন মিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সেই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন এবং সেখান থেকেই তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
আটককৃত দুই যুবকই বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা। তাদের বিস্তারিত পরিচয় এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকা নিচে প্রদান করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| আটককৃত ব্যক্তি ১ | রায়হান আলী রানা (৪০), পিতা: ইজার উদ্দিন, গ্রাম: খননা ওমর দিঘি, শাজাহানপুর। |
| আটককৃত ব্যক্তি ২ | ফিরোজ পোদ্দার (৩৮), পিতা: জামাল পোদ্দার, গ্রাম: শাকপালা, শাজাহানপুর। |
| জব্দকৃত আগ্নেয়াস্ত্র | ০১টি পিস্তল। |
| জব্দকৃত দেশীয় অস্ত্র | ০৩টি বড় চাপাতি। |
| অভিযানস্থল | বাবুর বাজার, নিমগাছি ইউনিয়ন, ধুনট। |
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, সেনাবাহিনী কর্তৃক আটকের পর তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই চক্রটির সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না কিংবা তারা কোনো বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।
সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনীর চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই সাফল্য ধুনটবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অপরিচিত ব্যক্তিদের ভাড়াটিয়া হিসেবে রাখার ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সেনাবাহিনী এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জননিরাপত্তা রক্ষায় এবং অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে এ ধরণের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী বা দুর্গম এলাকায় অপরাধীদের গোপন আস্তানাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বগুড়ার এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।