খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২০ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালকেন্দ্রিক চলমান আন্দোলনের মধ্যে এক যুবককে ঘিরে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। হোসাইন আল সুহান নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, সুহান ছাত্রলীগ নেতা এবং হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলা মামলার আসামি। তবে আন্দোলনকারীরা বলছে, তিনি আন্দোলনের একজন ‘সমন্বয়ক’।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নগর ভবনের সামনে থেকে সুহানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর প্রতিবাদে বিকেল থেকে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তারা কোতোয়ালী মডেল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভে অংশ নেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, সুহানকে শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের ওপর হামলা এবং ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। তিনি ছাত্রলীগ নেতা।
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান দাবি করেন, সুহান সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী এবং ছাত্রলীগের ক্যাডার। তাকে গ্রেপ্তারের সময় স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য জোর করে পুলিশের গাড়িতে উঠলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, সুহান তাদের আন্দোলনের সমন্বয়ক। স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের সদস্য তাহমিদ ইসলাম দাইয়ান বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা নগর ভবনের সামনে অবস্থান করছিলাম। তখন পুলিশ আমাদের সমন্বয়ক সুহানকে তুলে নিয়ে যায়। তার মুক্তির দাবিতে আমরা থানায় অবস্থান নিয়েছি।’
আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে স্মারকলিপি দিতে চাইলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয় এবং সুহানকে আটক করে নিয়ে যায়।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, রোগীদের হয়রানি ও স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে আন্দোলন চলছে। এর অংশ হিসেবে শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি গেটে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনে বসে। পরে চিকিৎসক-কর্মচারীদের সঙ্গে ছাত্রদের সংঘর্ষ, হামলা ও ইটপাটকেলে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এরপর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি ঘোষণা করেন এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। হামলার ঘটনায় শেবাচিম হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাহাদুর শিকদার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এতে আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনিসহ অজ্ঞাত ৮০ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা আইন অমান্য করে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, হত্যার হুমকি এবং মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসক অফিস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আন্দোলনের মুখপাত্র মহিউদ্দিন রনি ডিসি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন।
খবরওয়ালা/এমএজেড