খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার নতুন বিমান ও ড্রোন হামলায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়। ওই হামলায় একটি ট্রেন লক্ষ্যবস্তু হলে পাঁচ যাত্রী প্রাণ হারান। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, এই ধারাবাহিক হামলা শান্তি প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে এবং তিনি আন্তর্জাতিক মিত্রদের মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।
কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান মাইকোলা কালাশনিক টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, বিলোগোরোদস্কা কমিউনিটিতে একটি ড্রোন হামলায় একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হয়েছেন। নিহত দম্পতির চার বছর বয়সি সন্তান গুরুতর আহত হয়েছে। এ ছাড়া আরও তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন।
একই দিনে মধ্য ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ৪৬ বছর বয়সি এক ব্যক্তি প্রাণ হারান এবং পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দ্র গানঝাম জানিয়েছেন।
হামলার ফলে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে বহু ইউক্রেনীয় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন, যা জনজীবনে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও হামলা থামেনি। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার পরবর্তী দফা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিম্নলিখিত টেবিলে সাম্প্রতিক হামলার ক্ষয়ক্ষতি সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| স্থান | নিহত সংখ্যা | আহত সংখ্যা | লক্ষ্যবস্তু/পরিস্থিতি | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| বিলোগোরোদস্কা, কিয়েভ | ২ | ৪ | সাধারণ বাসিন্দা, ড্রোন হামলা | দম্পতির চার বছরের সন্তান আহত |
| দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক | ১ | ৫ | ড্রোন হামলা | আহতদের মধ্যে একজন গুরুতর |
| অন্যান্য ইউক্রেন অঞ্চল | ৫ | অজানা | ট্রেন লক্ষ্যবস্তু | আগের রাতের হামলা থেকে |
| মোট | ৮+ | ৯+ | – | – |
প্রাণহানির এই পরিসংখ্যান সামরিক এবং নাগরিক উভয় দিকের দায়িত্বের চিহ্ন বহন করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
জেলেনস্কির মতে, শান্তি আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন অপরিহার্য, এবং আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নতুন দফার আলোচনায় যুদ্ধবিরতি বা সামান্য স্থিতিশীলতার আশা করা হচ্ছে।