খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে মাঘ ১৪৩০ | ২৯ই জানুয়ারি ২০২৪ | 1148 Dhu al-Hijjah 5

নিজ সংবাদ ॥ ‘আমার স্বামী ও সন্তান এভাবে মরতে পারে না। তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত হলেই বের হয়ে আসবে। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।’- এ কথাগুলো বলছিলেন নিহত রেজাউল ইসলাম ওরফে মধুর স্ত্রী এবং মুগ্ধ’র মা শেফালি খাতুন। শনিবার বিকেলে শহরের মঙ্গলবাড়িয়া এলাকার ভাড়া বাড়ি থেকে রেজাউল ইসলাম ওরফে মধু ও তার ৭ বছরের ছেলে মুগ্ধ হুসাইনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল রোববার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ময়নাতদন্তের জন্য দুইজনের মরদেহ রাখা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চিকিৎসক না আসায় শুরু না হলেও দুপুরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতলের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, ‘কাগজপত্র দেরিতে পাওয়ায় ময়নাতদন্ত করতে দেরি হয়েছে।’ সকালে নিহত মুগ্ধ’র নানি বিলকিস খাতুন মর্গের সামনে বসে বিলাপ করতেছিলেন। মা, নানা-নানিসহ অন্য স্বজনরা তখন সেখানে ছিলেন। নানি বিলকিস খাতুন বলেন, “নাতি আমার খুব হাসি-খুশি ছিল। সব সময় আমার সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করত। শনিবার সকালে নাস্তা শেষে ওর বাবা (রেজাউল) বলল, ‘ছেলেকে আজ স্কুলে ভর্তি করাতে যাব। আমি পৌরসভা থেকে জন্মনিবন্ধনের কাগজ নিয়ে আসছি, ওকে রেডি করে রেখ।’ নাতি আমার স্কুলে ভর্তি হবে, সকালে নুডলস খেল, খুব খুশি ছিল। সে আমাকে বলে, ‘আমি স্কুলে ভর্তি হব, তুমি আমার গার্ড হবা।’ তখন আমি বলি, ‘তুমি আমাকে বেতন দিবা?’ সে বলে, ‘আমি বড় হয়ে চাকরি করব। নানি, বড় হয়ে তোমাকে দেখেশুনে রাখব।” রেজাউলের শাশুড়ি বলেন, ‘আমার বেটা (জামাই) খুব ভাল ছেলে ছিল। তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না। আমার জামাই কারও কাছে টাকা-পয়সা ধারে না, সেই আরও মানুষের কাছে টাকা পাবে। এলাকার সবাই তাকে ভালো জানে।’ এদিকে বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা সে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে মনে করলেও পরিবার মনে করছে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা। জানা গেছে, সকালে রেজাউল ১০টার দিকে প্রথমে বাড়ি থেকে শহরের আলফার মোড়ে স্বর্ণের দোকানে কাজে আসেন। ১২টার দিকে বাড়িতে গিয়ে নাতিকে সঙ্গে নিয়ে বের হয়ে আসেন। এরপর দুপুরের পরও বাড়ি না ফিরলে মুগ্ধর মা শেফালি খাতুন স্বামীর ফোনে কল দিতে থাকেন। কল হলেও কেউ দীর্ঘ সময় রিসিভ না করায় তিনি মঙ্গলবাড়িয়া ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে দরজা-জানালা বন্ধ। এরপর জানালে ভেঙে দেখেন, ভেতরে আলাদা আলাদা রশিতে স্বামী-সন্তান ঝুলছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। গতকাল রোববার সকালে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘মুগ্ধ’র মা শেফালী খাতুন বাদী হয়ে একটি অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। এদিকে পরিবারের সদস্যরা জানান, রেজাউলের স্ত্রী অন্তস্বত্তা। অসুস্থ থাকায় সে পাশেই পশ্চিম মজমপুরে বাবার বাড়িতে ছিল। পরিবারের কোনো ঝামেলাও ছিল না বলে জানান তারা। ১০ থেকে ১২ বছর আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধুসৃদন প্রেম করে শেফালীকে বিয়ে করে। নাম পরিবর্তন করে রাখেন রেজাউল ইসলাম।