খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট ২০২৫
যশোর-খুলনা অঞ্চলের লাখো মানুষ প্রায় চার দশক ধরে ভবদহের জলাবদ্ধতার দুঃসহ যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন।
বর্ষা এলেই শত শত গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়ে, ডুবে যায় ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষেত। এ সময়ে সরকারের একের পর এক প্রকল্পে শত শত কোটি টাকা ব্যয় হলেও কার্যকর সমাধান আসেনি। ফলে ভুক্তভোগীরা এখন চরম অবিশ্বাসে ভুগছেন।
ভবদহ স্লুইসগেটটি স্থাপিত হয় ১৯৬৩ সালে। কিন্তু আশপাশের নদী ও খালে অতিরিক্ত পলি জমে ’৮০-এর দশক থেকে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এর ফলে মনিরামপুর, অভয়নগর, কেশবপুর, ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার প্রায় ৩০০ গ্রাম নিয়মিত পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। বহু পরিবার বাধ্য হয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে গেছেন।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত চার দশকে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮০০ কোটির বেশি টাকা ব্যয় হলেও প্রকৃত কোনো কাজ হয়নি। বরং সিংহভাগ অর্থ লুটপাট হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে খুলনা-যশোর ড্রেনেজ রিহ্যাবিলিটেশন প্রকল্পে ২২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। এরপর ২০০২ সালে ২৫২ কোটি, ২০০৬ সালে ৬৯ কোটি, ২০১১ সালে ৭১ কোটি, ২০১৪ সালে ৪৪ কোটি এবং সর্বশেষ আমডাঙ্গা খাল খননে ৪৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। বর্তমানে নদী খননের জন্য আরও ১৪০ কোটির একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে কুলটিয়া, লখাইডাঙ্গা, বাজে কুলটিয়া, আমিনপুর ও হাসাডাঙ্গা গ্রামে দেখা গেছে ভয়াবহ দুর্ভোগের চিত্র। লখাইডাঙ্গার গৃহবধূ কাকলী রানী বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘এভাবে আর কত দিন জলের সঙ্গে বসবাস করবো? কারো কাছে আর কোনো দাবি করবো না, বলে লাভ নেই।’
আমিনপুরের মুক্তা খাতুন জানান, তাদের ঘরে এক মাস ধরে পানি উঠেছে, রান্না করতে হচ্ছে বারান্দায়।
ভবদহ পানিনিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রনজিৎ বাওয়ালি অভিযোগ করে বলেন,‘বিগত সরকারগুলো শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও তার কোনো সুফল মেলেনি। সিংহভাগ অর্থ পাউবোর অসাধু কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধিদের পকেটে গেছে।’
পাউবো যশোর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ ব্যানার্জী বলেন, ভবদহ সংলগ্ন নদী-খাল খননের জন্য ১৪০ কোটি টাকার প্রস্তাব বর্তমানে একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
খবরওয়ালা/আশ