খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৬ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ ভুয়া বিলের মাধ্যমে আত্মসাতের নির্দিষ্ট প্রমাণসহ অভিযোগ জমা পড়েছে শিক্ষা অধিদপ্তরে। তবে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র বদলির আদেশ ছাড়া আর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই হেলাল উদ্দিনকে সাঁথিয়া থেকে নাটোরের বড়াইগ্রামে বদলি করা হয়। কিন্তু তিনি ২১ জুলাই পদে বহাল থেকেই জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের নামে ৭ লাখ ২ হাজার ৭৭৪ টাকার ভুয়া ডিপিএড কোর্স বাবদ বিল অনুমোদন করেন। অথচ নজরুল ইসলাম এই কোর্স করেননি এবং নিজেও স্বীকার করেছেন অর্থ উত্তোলনের কথা। তিনি দাবি করেন, “সরকারি টাকা যেন অপচয় না হয়, সে কারণেই তা তুলে জমা দিয়েছি।”
এছাড়া ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাঁথিয়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষক ভ্রমণভাতার নামে ৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকার বেশি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে, যার বেশিরভাগই শিক্ষকরা পাননি। ভুয়া রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর নিয়ে সামান্য অর্থ দিয়ে পুরো বরাদ্দ তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
চোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, ‘সাদা কাগজে সই নিয়ে প্রকৃত বিল ছাড়াই টাকা তোলা হয়েছে। এমনকি শিক্ষা অফিসে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলের জন্যও একই অর্থবছরে একাধিকবার জ্বালানি ও মেরামতের ভুয়া বিল দেখানো হয়েছে।’
শুধু তাই নয়, শিক্ষক সমিতির দাবি, হেলাল উদ্দিন বিদ্যালয়গুলোকে বিতর্কিত ও শিশুদের জন্য অনুপযোগী বই কিনতে বাধ্য করেন এবং স্লিপ ফান্ড থেকে জোরপূর্বক আদায় করেন ৫ লক্ষাধিক টাকা। যেসব শিক্ষক এতে আপত্তি করেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও দমন-পীড়নের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন নিজের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নজরুল ইসলামের বিলে আমি সই করিনি। জাল সই করে টাকা তোলা হয়েছে। শিক্ষক নেতারা আমার ওপর আক্রোশ থেকে এসব অভিযোগ করছেন।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, “সাঁথিয়ার শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন। ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খবরওয়ালা/এমএজেড