খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্তে ঝুঁকিপূর্ণ ও অননুমোদিত বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক) সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এসব যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলে ট্রাফিক ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা, বিশেষত মহাসড়কে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে, একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
বিগত সময়ে একাধিকবার এই যানবাহনগুলো সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আন্দোলনের মুখে তা ভেস্তে গেছে। এসব যানবাহনের জন্য এখনো পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট আইন, বিধিমালা বা নীতিমালা না থাকায় অব্যবস্থা আরও প্রকট হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশে বর্তমানে ৫০ লাখেরও বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকাতেই রয়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ।
এ অবস্থায়, ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’ নামে একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। বর্তমানে খসড়াটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মতামত নিয়ে চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
কী থাকছে নীতিমালায়?
নীতিমালা অনুযায়ী, বিআরটিএর নিবন্ধন এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হবে। কোথায় কতসংখ্যক থ্রি-হুইলার চলবে, তা নির্ধারণ করবে ‘যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি’।
একই ব্যক্তি মধ্যমগতির তিনটির বেশি এবং ধীরগতির পাঁচটির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না। কোম্পানির ক্ষেত্রে সীমা থাকবে ২৫টি।
থ্রি-হুইলারগুলোকে নির্দিষ্ট রুটে চালানোর নিয়ম প্রস্তাব করা হয়েছে। মহাসড়কে চলতে পারবে না, তবে সার্ভিস লেনে চলাচল করা যাবে। সিটি করপোরেশন ও বড় পৌর এলাকায় মধ্যমগতির অটোরিকশা চলবে, অন্যদিকে ধীরগতির অটোরিকশা শুধুমাত্র জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের রুটে চলবে।
নিবন্ধন ও ফিটনেস বাধ্যতামূলক
প্রত্যেকটি যানবাহনের জন্য ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন ও নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক করা হবে। অটোরিকশাচালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে। বিআরটিএ জেলা ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে।
যানটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা ও ওজনের সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধীরগতির অটোরিকশার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার, আর মধ্যমগতির জন্য ৫০ কিলোমিটার।
উৎপাদক ও আমদানিকারকদের জন্য বিধান
যে প্রতিষ্ঠান থ্রি-হুইলার বা এর যন্ত্রাংশ উৎপাদন বা আমদানি করবে, তাদের অবশ্যই বিআরটিএ তালিকাভুক্ত ও বিডা নিবন্ধিত হতে হবে। শুধু বিএসটিআই অনুমোদিত নতুন যন্ত্রাংশ আমদানি করা যাবে এবং গায়ে খোদাই করা চেসিস নম্বর থাকতে হবে।
চার্জিংয়ের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের নির্ধারিত গাইডলাইন অনুযায়ী চার্জিং স্টেশন স্থাপন করতে হবে।
নিরাপদ মডেলে রূপান্তরের সময়সীমা এক বছর
যেসব অননুমোদিত, অনিরাপদ ধীরগতির থ্রি-হুইলার বর্তমানে সড়কে রয়েছে, সেগুলোকে আগামী এক বছরের মধ্যে নিরাপদ মডেলে রূপান্তর করতে হবে। নির্ধারিত সময় পার হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনপ্রিয় হলেও নিরাপদ নয়
নীতিমালায় স্বীকার করা হয়েছে, এসব যান সাশ্রয়ী, সহজলভ্য এবং বহু মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম। তবুও, নিরাপত্তাহীন ও অপরিকল্পিত ব্যবহারের কারণে সড়কে ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই মহাসড়ক বাদে নিরাপদভাবে সুনির্দিষ্ট রুটে এই যান চলাচলের অনুমতি দিতে চায় সরকার।
অতিরিক্ত সচিব নিখিল কুমার দাস বলেন, “অনিয়মের অবসান ঘটাতে বাস্তবতাভিত্তিক একটি নীতিমালা তৈরি করেছি। সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে তা দ্রুতই চূড়ান্ত হবে।”
নীতিমালা চূড়ান্ত হলে বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার খাতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটবে বলে আশা করছে সরকার।
খবরওয়ালা/টিএসএন