খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১৪ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে বারবার অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ এক ঘটনায় আজকের পত্রিকার দৌলতপুর প্রতিনিধি তামিম আদনান তথ্য সংগ্রহের জন্য ফোন করলে ওসি নাজমুল হুদাকে অশালীন ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করতে শোনা যায়।
প্রাপ্ত অডিও ক্লিপে ওসিকে বলতে শোনা যায়, “আবার শালা এই শালা ফোন দেয়।” এরপর সাংবাদিক তামিম সালাম দিলেও ওসি ক্ষিপ্ত ভঙ্গিতে বলেন, “আমি জানি না আসলে কী হয়েছে। কেউ বলে চাঁদা চেয়েছে, কেউ বলে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ায় এই ঘটনা।”
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১২ জুলাই) উপজেলার চক কৃষ্ণপুর গ্রামে সংঘর্ষ, লুটপাট ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর। রোববার সকালে ওই ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানতে ফোন করেছিলেন সাংবাদিক তামিম আদনান।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তামিম বলেন, “একটি গুরুতর ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ফোন করেছিলাম। কিন্তু একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন অশোভন আচরণ পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। এটা সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।”
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, ওসি নাজমুল হুদা শুধু তামিম আদনানের সাথেই নয়, এর আগেও একাধিক সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।
সমকাল পত্রিকার প্রতিনিধি আহমেদ রাজু বলেন, “তার আচরণের জন্য আমিও তার সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলি। ৫ আগস্টের পর প্রশাসনিক আচরণে যে পরিবর্তন এসেছে, তা উদ্বেগজনক।”
স্থানীয় সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম বলেন, “তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফোন করলেও তিনি প্রায়ই রুক্ষ ব্যবহার করেন। এটা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বড় বাধা।”
দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশাসনের সদাচরণ থাকা উচিত। একজন থানার ওসির এমন ভাষা ও আচরণ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি নাজমুল হুদা বলেন, “আমি কখনোই কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে অসদাচরণ করিনি। ব্যস্ততার কারণে হয়তো কখনো কল রিসিভ করতে পারি না, তবে পরে অবশ্যই কল ব্যাক করি।”
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “হয়তো ওসি অন্য কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে রুক্ষ আচরণের অভিযোগটি আমি গুরুত্বসহকারে দেখছি। তাকে পেশাদার ও বিনয়ী আচরণের পরামর্শ দেওয়া হবে।”
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে সাংবাদিক-প্রশাসন সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পেশাগত স্বাধীনতাও হুমকির মুখে পড়বে।
খবরওয়ালা/এমএজেড