খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
সরকার কর্তৃক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুমোদনের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স (এনএইচএ)। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা আরও সুদৃঢ় হবে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এনএইচএর আহ্বায়ক অধ্যাপক শাদরুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব ডা. আব্দুল আহাদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের সাম্প্রতিক সভায় ২৯৫টি ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির সিদ্ধান্ত দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছিল, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলোর জন্য।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, যুগোপযোগী ও সুসংহত মূল্যনীতি অনুমোদনের ফলে ওষুধের বাজারে নীতিগত শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে জনগণ সহজে মানসম্মত, নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ সংগ্রহ করতে পারবে। এনএইচএর ভাষ্য অনুযায়ী, “ওষুধের দাম যৌক্তিক ও নিয়ন্ত্রিত হলে শুধু চিকিৎসা ব্যয়ই কমে না, বরং রোগীরা নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত হন, যা সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখে।”
সংগঠনটি মনে করে, প্রয়োজনের সময় কার্যকর ওষুধ পাওয়া নাগরিকের একটি মৌলিক অধিকার। স্বচ্ছ ও বিজ্ঞানভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি সেই অধিকার নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এনএইচএ আরও জানায়, এই সিদ্ধান্ত ওষুধ বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং ভোক্তাদের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে।
এই উদ্যোগের জন্য এনএইচএর পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়। সংগঠনটির মতে, তাঁদের নেতৃত্ব ও নীতিগত দিকনির্দেশনার ফলে ওষুধ খাতে দীর্ঘদিনের একটি কাঠামোগত সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে।
এনএইচএ আশাবাদ ব্যক্ত করে জানায়, সরকার, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, চিকিৎসক সমাজ, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। সঠিক নজরদারি ও নিয়মিত মূল্য পর্যালোচনার মাধ্যমে এই উদ্যোগকে টেকসই করা গেলে একটি জনবান্ধব ও ন্যায়সংগত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অনুমোদিত ওষুধের সংখ্যা | ২৯৫টি |
| নীতির উদ্দেশ্য | ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ ও ব্যয় হ্রাস |
| উপকারভোগী | সাধারণ জনগণ, বিশেষত নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবার |
| প্রত্যাশিত ফল | বাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনআস্থা বৃদ্ধি |
বিবৃতির শেষে এনএইচএ জানায়, ভবিষ্যতেও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্যখাতের ইতিবাচক সংস্কার ও নীতিগত উদ্যোগে তারা গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। সংগঠনটির বিশ্বাস, এই সিদ্ধান্ত একটি টেকসই ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গঠনের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।