খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫–এর চূড়ান্ত অধ্যাদেশ দ্রুত জারির দাবিতে ঢাকার অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক মিরপুর রোড বুধবার সকাল থেকেই পরিণত হয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সমাবেশস্থলে। সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিলে মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। ফলে নিউমার্কেট, আজিমপুর, ধানমন্ডি, সায়েন্সল্যাবসহ আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। সকাল অফিস–পথে বের হওয়া হাজারো মানুষ পড়ে যান চরম ভোগান্তিতে।
দীর্ঘদিন ধরে ঢাবি–অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা পরিচালনা এবং ফল প্রকাশসহ গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক কার্যক্রমকে দ্রুত ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে আসছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের আশ্বাস দিলেও তিন দফা বৈঠকের পরও কোনো বাস্তব অগ্রগতি না দেখতে পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
শিক্ষার্থীদের মতে, সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়া অধ্যাদেশের দেরি তাঁদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষা–বিলম্ব, সেশনজট এবং ডিগ্রি বিলম্বের ঝুঁকির মুখে। তাই “প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি”—এমন মন্তব্য করেন আন্দোলনকারী বহু শিক্ষার্থী।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে প্রথমে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পর তাঁরা মিছিলসহকারে আজিমপুর মোড় ঘুরে মিরপুর রোডে ফিরে আসেন এবং ঢাকা কলেজ–সংলগ্ন সড়কে বসে পড়েন। স্লোগান ওঠে—
“অধ্যাদেশ চাই, ভবিষ্যৎ বাঁচাই”,
“প্রতিশ্রুতি নয়, চাই সিদ্ধান্ত”,
“ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি—আমাদের অধিকার!”
এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলোচনার নামে শুধু সময়ক্ষেপণ করছে। কলেজ–পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষা, ফল প্রকাশ—সবকিছুই বারবার স্থগিত বা বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে কর্মজীবন শুরু, চাকরির আবেদন, উচ্চশিক্ষা—সবই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সড়ক অবরোধের ফলে মিরপুর রোডে দ্রুতই লম্বা যানজট তৈরি হয়। নিউমার্কেট থেকে সায়েন্সল্যাব পর্যন্ত প্রতিটি মোড়ে যানবাহন আটকে যায়। জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলগামী শিশুদের গাড়ি, অফিসগামী বাস—সবই আটকে পড়ে। পথচারীদের অনেকেই হাঁটতে বাধ্য হন। দোকানপাট খোলার সময় ব্যবসায়ীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—
অধ্যাদেশের নিশ্চিত ঘোষণা ছাড়া তারা সড়ক ছাড়বেন না।
অনেক শিক্ষার্থী জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এখন তারা বাধ্য হয়ে কঠোর কর্মসূচিতে নেমেছেন।
এদিকে, সাধারণ যাত্রীরা আন্দোলনের যৌক্তিকতা মেনে নিলেও বলেন, আন্দোলনের এমন পদ্ধতি যেন বিকল্প সমাধানের মাধ্যমে পরিচালিত হয় যাতে সড়ক অবরোধে জনদুর্ভোগ না বাড়ে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসতে পারে।