খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই মার্চ ২০২৬, ৫:১৩ পিএম
ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত অনলাইন জুয়া ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে ৬১ জন ব্যক্তি এবং তাদের স্বার্থ-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে থাকা মোট ৪৪৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপ মূলত অপরাধলব্ধ অর্থ প্রতারিত বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া রোধ করার উদ্দেশ্য নিয়েই নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে সিটি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা শেখ মো. ওয়াজিহ উদ্দিন উল্লেখযোগ্য। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি অনলাইনে প্রতারণার শিকার হয়ে পাঁচটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৫১ লাখ ১২ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। ঘটনার সূত্র ধরে আরও তদন্তে সিআইডি পেয়েছে যে, এসএম জুনাইদুল হক, ওমর হীত হিটলু, মেহেদী হাসান তালুকদারসহ মোট ৬১ জন ব্যক্তি এবং তাদের স্বার্থ-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ৫৯৫টি ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই হিসাবগুলোর লেনদেন বিশ্লেষণে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, মোট ১ হাজার ২১২ কোটি ৪ হাজার টাকা জমা এবং ১ হাজার ২০৭ কোটি ৬ হাজার টাকা উত্তোলন হয়েছে। এসব লেনদেনের মধ্যে অনলাইন প্রতারণা, অনলাইন গেমিং বা বেটিং, হুন্ডি, ডিজিটাল কারেন্সি বা ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং শুল্ক ফাঁকির মতো অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ৪৪৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে অপরাধলব্ধ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া না যায়।
নিচের টেবিলে অবরুদ্ধ হিসাব এবং প্রাথমিক অর্থের পরিমাণ দেখানো হলো:
| অভিযুক্ত সংখ্যা | ব্যাংক হিসাব সংখ্যা | জমার পরিমাণ (কোটি টাকা) | উত্তোলনের পরিমাণ (কোটি টাকা) |
|---|---|---|---|
| ৬১ জন | ৪৪৫ | ১,২১২.০৪ | ১,২০৭.০৬ |
সোমবার (৯ মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। এর আগে, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা আদালতে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের জন্য আবেদন করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই আদেশের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই নির্দেশনা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ডিজিটাল অর্থ ব্যবস্থায় অপরাধমূলক লেনদেন রোধ করতে এবং অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য