খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২০ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুমিল্লার ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠ বৃহস্পতিবারকে ঘিরে পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একই স্থানে একই দিনে দুই ভিন্ন পক্ষের পৃথক কর্মসূচি আয়োজনের ঘোষণা স্থানীয় রাজনীতিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনা করে কোনো পক্ষকেই অনুমতি দেয়নি, তবুও নেতা-কর্মীদের তৎপরতা ও মাঠ দখলচেষ্টা থামেনি।
কুমিল্লা–৬ আসনে দলীয় প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। জনগণের শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি বৃহস্পতিবার টাউন হল মাঠে বিশাল জনসভার ঘোষণা দেন। মনিরুল-পক্ষের নেতা-কর্মীরা বুধবার রাতেও মঞ্চ প্রস্তুত, ব্যানার টানানোসহ মাঠ সাজানোর কাজ চালিয়ে যান।
অপরদিকে একই দিন ঠিক একই জায়গায় ভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেন অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী আমিন-উর-রশিদ (ইয়াছিন)-এর সমর্থকেরা। খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজনকে সামনে রেখে তারাও মাঠে প্যান্ডেল নির্মাণ শুরু করে। দুই পক্ষের এই সমান্তরাল প্রস্তুতি মাঠজুড়ে দ্বন্দ্বের আবহ তৈরি করে, যা এলাকায় আলোচনার ঝড় তোলে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী জানান—ডিএসবির গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্ট সতর্কতা এসেছে যে একই দলের দুটি পক্ষ একই মাঠে কর্মসূচি পালন করলে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা প্রবল। সেই কারণেই টাউন হল মাঠ কাউকে বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুই পক্ষকে লিখিত চিঠি দিয়ে বিকল্প স্থান বেছে নেওয়ার নির্দেশও পাঠানো হয়।
কিন্তু প্রশাসনিক নির্দেশ তেমন কার্যকর হয়নি। বুধবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দুই পক্ষই মাঠে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির প্রস্তুতি চালিয়ে গেছে। মনিরুল হক চৌধুরীর আইনজীবী আবদুল মোতালেব মজুমদার বলেন—“সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, জনসভা হবে এবং টাউন হল মাঠেই হবে।” একই অবস্থান প্রকাশ করেন আমিন-উর-রশিদের স্থানীয় অনুসারী সফিউল আলম (রায়হান)—“দোয়া মাহফিল স্থগিত নয়, মাঠেই হবে।”
দলের ভেতরের এই প্রতিযোগিতা নতুন নয়। ৩ নভেম্বর বিএনপি সারাদেশে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করলে কুমিল্লা–৬ আসনে মনিরুল হক চৌধুরীর নাম ঘোষণার পর থেকেই আমিন-উর-রশিদের অনুসারীরা নিয়মিত কর্মসূচি পালন করে ক্ষমতার অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এর জেরে বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রশাসন হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এদিকে কুমিল্লার রাজনৈতিক পরিবেশ উদ্বেগপূর্ণ হয়ে পড়েছে—কে শেষ পর্যন্ত মাঠে কর্মসূচি করতে পারবে, নাকি দুই পক্ষের কেউই কার্যত তা করতে সক্ষম হবে না—এ প্রশ্নে স্থানীয়দের নজর এখন টাউন হল মাঠমুখী।