খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগে যেভাবে নির্বাচন হয়েছিল, সেটা হচ্ছে লোক দেখানো। সেজন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে একটা প্রকৃত নির্বাচন আয়োজনের ট্রেনিং দিতে হবে। কার কি ভূমিকা সেটা পরিষ্কার থাকতে হবে। দরকার হলে রিহার্সাল (মহড়া) নির্বাচন করতে হবে, যাতে অনুশীলন হয়।
বুধবার (৯ জুলাই) রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে এ কথা বলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনের সময় ভোটারদের জন্য নিয়মাবলি সম্বলিত ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করতে বলেছেন যাতে ভোটাররা প্রশিক্ষিত হতে পারে। টেলিভিশন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিওগুলো প্রচার করতে হবে, জরুরি নম্বরগুলো সবার কাছে পৌঁছাতে হবে, যাতে কোনও ভোটারের অসুবিধা হলে সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিতে পারে। কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যেন ভোটার সরাসরি যুক্ত থাকতে পারে।
নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, অর্ধেক ভোটার নারী, কেউ যাতে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না করতে পারে এজন্য পর্যাপ্ত নারী সদস্য এবং কর্মকর্তা মোতায়েন থাকতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা নতুন ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ১৬ বছর মানুষ ভোট দেখেনি। ভোটারদের স্মৃতিতে আছে ভোটকেন্দ্রে মারামারি, ভোট চুরি, আগামী নির্বাচনে যেন ভোটারদের একটা ভালো অভিজ্ঞতা হয়, একটা সুন্দর স্মৃতি থাকে, প্রথম ভোট যারা দিবে—এটা তাদের জন্য গৌরবের, সে যেন ভালো অনুভব করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগে ভোটের দিন ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা হতো। আবার যাতে ইন্টারনেট ব্যবস্থা সচল রাখা যায়, সেজন্য বলা হয়েছে। অতীতে আমরা দেখেছি, মিডিয়ার দলীয় কর্মীদের নির্বাচন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়, এবার প্রকৃত মিডিয়াকর্মী দায়িত্ব পালন করতে পারে—এর জন্য আগে থেকে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। মিডিয়ার জন্য আচরণবিধি যাতে আগে থেকে প্রস্তুত করা যায়, যাতে আগে থেকে জানতে পারে মিডিয়ার দায়িত্ব কতটুকু এবং যারা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন, তারাও জানতে পারবেন মিডিয়ার এক্সেস কতটুকু। এছাড়া পর্যবেক্ষকের নামে কেউ যাতে দলীয় কর্মীকে পাঠাতে না পারে এই বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
খবরওয়ালা/এসআর