অস্থায়ী সরকার চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ৭৩,০৩৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের মোট অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ৮১ শতাংশই ব্যাংক থেকে এসেছে। একই সময়ে মোট নেট ঋণগ্রহণ স্থানীয় ও বিদেশী উভয় উৎস মিলিয়ে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা ছুঁয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণগ্রহণ ব্যক্তিগত খাতের ঋণ গ্রহণের সুযোগ কমাতে পারে, বিনিয়োগ ব্যাহত করতে পারে এবং সুদের হার বৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করতে পারে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যক্তিগত খাতের ঋণ প্রবাহ ইতিমধ্যেই রেকর্ড লেভেলে কম রয়েছে, যা এই পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করেছে।
ঋণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঋণ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো “একীভূত ইসলামী ব্যাংক”-এর পুঁজিসহায়তা। গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পাঁচটি ব্যাংক একত্রিত হয়ে এই ব্যাংক গঠন করেছিল। সরকারের প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকার পুঁজির বড় অংশ ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।
অতিরিক্তভাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে রাজস্ব সংগ্রহ লক্ষ্য অনুযায়ী পূর্ণ হয়নি, তবে চলমান ও প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলস্বরূপ, সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়েছে।
ঋণের বিস্তারিত পরিসংখ্যান
| ঋণের ধরন |
জুলাই–জানুয়ারি ২০২৫ |
একই সময় ২০২৪ |
পরিবর্তন |
| ব্যাংক ঋণ |
৭৩,০৩৫ কোটি টাকা |
৯,৪৪২ কোটি টাকা |
প্রায় ৮ গুণ বৃদ্ধি |
| ব্যাংকবহির্ভূত উৎস |
৭,২১৬ কোটি টাকা |
২৫,৮৬৪ কোটি টাকা |
৭২% কম |
| বৈদেশিক ঋণ |
৯,৮৩২ কোটি টাকা |
২৭,৯৬৪ কোটি টাকা |
৬৫% কম |
| মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ |
১০,৩৭,০০০ কোটি টাকা |
৮,৮৬,০০০ কোটি টাকা |
১,৫১,০০০ কোটি বৃদ্ধি |
চলতি অর্থবছরের জন্য সরকার ৭.৯০ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছিল, যার মোট ঘাটতি ২.২১ লাখ কোটি টাকা বা জিডিপির ৩.৫ শতাংশ। ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১.২৫ লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, যার মধ্যে ১.০৪ লাখ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে এবং ২১,০০০ কোটি টাকা ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে নেওয়া হবে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক ঋণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ প্রায় ৭২ শতাংশ কমেছে এবং বৈদেশিক ঋণ মোট ঋণের ১১ শতাংশের কমে গেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের উচিত ঋণ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করা, যা ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।