খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত স্বল্প সময়ে কোনো সরকার এত অর্জন করতে পারেনি, যতটা অন্তর্বর্তী সরকার গত পনেরো মাসে করেছে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, অন্তর্বর্তী সরকার নামমাত্র সরকার হলেও বাস্তবে এটি এক ধরনের এনজিও-গ্রাম। অনেকের কাছে এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল প্রশাসন— এতটাই দুর্বল যে যুক্তরাষ্ট্রও এর সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিতে আগ্রহ দেখায়নি। সরকারের নেতারা প্রায়ই ভীত বা অদক্ষ বলে মনে হয়— বিশেষ করে এমন সময়ে যখন ৫০০ দিনে ১,৭০০টির বেশি বিক্ষোভে তারা সড়কে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। আইন পাস করতেও তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে, প্রয়োগ করা তো দূরের কথা।
তিনি আরও লেখেন, অন্তর্বর্তী সরকার তুলনামূলক ছোট বা অখ্যাত গোষ্ঠীর চাপের কাছে বারবার নতি স্বীকার করেছে। গত ১৫ মাসে এ সরকারকে অক্রিয়তা ও অযোগ্যতার নানা অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেকেই ব্যঙ্গ করে বলেন, এটি যেন ‘কিছু না করা, মাখন-খাওয়া দল’— যারা কাকতালীয়ভাবে ক্ষমতায় এসেছে, কিছুই করতে পারেনি এবং এখন নিরাপদভাবে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে। তবুও, পেছনে তাকালে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি— এটি কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সরকারগুলোর একটি। তারা তাদের প্রায় সব লক্ষ্যই পূরণ করেছে।
তিনি পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব সাফল্য তুলে ধরেন তা হলো—
শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বিপ্লব-পরবর্তী প্রতিশোধমূলক হামলা থামানো হয়েছে।
মার্কিন শুল্ক চুক্তি কোনো লবিং ফার্ম ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।
মাত্র ১৫ মাসে রেকর্ডসংখ্যক আইন পাস হয়েছে, যার মধ্যে বিস্তৃত শ্রম সংস্কার আইনও আছে।
জুলাই ঘোষণা একটি ঐতিহাসিক নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে এবং জুলাই চার্টার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনের পথ তৈরি করতে পারে।
সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, ফলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামিন বা মামলা ব্যবহার করা কঠিন হবে।
বিশ্বের শীর্ষ বন্দর অপারেটরদের একটি লালদিয়া টার্মিনাল চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দেশের শিল্প রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপন করেছে— এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় বিনিয়োগ।
নতুন পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে নিয়ে গেছে।
অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়েছে এবং আবার প্রবৃদ্ধির পথে ফিরেছে।
ব্যাংকিং খাতে লুটপাট রোধ করা হয়েছে, টাকা স্থিতিশীল রয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে— খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে নেমে ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অতীতের নিপীড়নের জন্য জবাবদিহিতা শুরু হয়েছে এবং ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শেখ হাসিনাকে তার অবস্থান দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে।
র্যাব এখন আইনের আওতায় পরিচালিত হয়; গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ভিন্নমতাবলম্বীদের হয়রানি থেকে সরে এসেছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে।
গত ১৬ মাসে একটিও সাজানো ‘ক্রসফায়ার’ ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
শেষে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে কোনো সরকার এত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি, যতটা অন্তর্বর্তী সরকার (IG) এই পনেরো মাসে করেছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন