খুলনা নগরীতে খাদ্য পরিবহন ও সংরক্ষণ ঠিকাদার সমিতির দপ্তরে ঢুকে এক সিনিয়র ঠিকাদার নেতাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর খানজাহান আলী সড়কের শান্তিধাম মোড় এলাকায় অবস্থিত সমিতির কার্যালয়ে এ হামলা হয়। এতে ৬২ বছর বয়সী শেখ হারুনুর রশিদ গুরুতর আহত হন।
আহত শেখ হারুনুর রশিদ খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানার নয়াবাটি এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত শেখ আব্দুর রউফের ছেলে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলিটি তার ডান পায়ের উরুতে বিদ্ধ হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সময় ঠিকাদার সমিতির ভেতরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বের দখল ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার প্রতিপক্ষের একদল লোক সমিতির অফিসে প্রবেশ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক খান মোহাম্মদ রেজাউল আলম অভিযোগ করে বলেন, একটি পক্ষ জোরপূর্বক সমিতির জায়গা দখল করেছিল। পরবর্তীতে আদালতে মামলা হলে রায় তাদের পক্ষে আসে এবং তারা পুনরায় দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে প্রতিপক্ষ সেই রায় মানতে নারাজ ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে শটগান ব্যবহার করে গুলি ছোড়ে। লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তিনি নিজেই, তবে তার ছেলের বাধার কারণে গুলি লক্ষ্যচ্যুত হয়ে শেখ হারুনুর রশিদের গায়ে লাগে।
তিনি আরও জানান, হামলায় মানিকতলা এলাকার এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি প্রার্থীসহ একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে নিরালা ও সোনাডাঙ্গা এলাকার কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি মামলার এজাহারে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই সমিতির নেতৃত্ব ও সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একাধিকবার সালিশ ও বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি, বরং উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান শুরু করেছে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই সংঘটিত হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ এবং পরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। তবে কারা সরাসরি গুলি করেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।
নিচে ঘটনার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
বিষয়
বিবরণ
ঘটনা
সমিতির অফিসে ঢুকে গুলিবর্ষণ
স্থান
খুলনা নগরীর শান্তিধাম মোড়, খানজাহান আলী সড়ক
আহত
শেখ হারুনুর রশিদ (৬২)
আঘাতের স্থান
ডান পায়ের উরু
কারণ
সমিতির দখল ও নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ
অস্ত্র
শটগান ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ
বর্তমান অবস্থা
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
তদন্ত
পুলিশ তদন্ত ও অভিযান চলছে
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।